logo

স্বপ্নে দোয়া, জিকির ও ইসতেগফার পড়তে দেখলে কী হয়

স্বপ্নে দোয়া, জিকির ও ইসতেগফার পড়তে দেখলে কী হয়
তাসবিহ পাঠ করছেন নারী। ছবি: পিন্টারেস্ট

মানুষ ঘুমের ঘরে প্রায়ই স্বপ্ন দেখে। ইসলামে সত্য স্বপ্নকে নবুওয়াতের ৪৬ ভাগের এক ভাগ বলা হয়েছে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘স্বপ্ন তিন প্রকার- এক. শয়তানের পক্ষ থেকে ভীতিজনক স্বপ্ন, যার মাধ্যমে সে আদম সন্তানকে দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত করে। দুই. জাগ্রত অবস্থায় যা নিয়ে মানুষ দুঃশ্চিন্তা করে ঘুমের মধ্যে সে তা স্বপ্নে দেখে। তিন. নবুওয়াতের ৪৬ ভাগের একভাগ বা সত্য স্বপ্ন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩১৫৫)। স্বপ্নে মানুষ নানা কিছু দেখে। সব স্বপ্ন সত্যি হয় না। সব স্বপ্ন আবার মিথ্যাও হয় না। কোনো কোনো স্বপ্ন মানুষের জীবনেও প্রভাব ফেলে।

স্বপ্নে কোনো নির্দিষ্ট দোয়া পড়তে দেখলে স্বপ্নদ্রষ্টা ফরজ নামাজ আদায় করবে। যদি এমন কোনো দোয়া পড়ে, যাতে আল্লাহ তাআলার নাম না থাকে, তা হলে সে দেখানোর জন্য নামাজ পড়বে। যদি দেখে শুধু নিজের জন্যই দোয়া করছে, তা হলে সে ছেলেসন্তান লাভ করবে, কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘যখন সে তার প্রতিপালককে ডাকল মৃদুস্বরে বা নির্জনে।’ (সুরা মরিয়াম, আয়াত: ৩)

অন্ধকারে আল্লাহ তাআলাকে ডাকতে দেখলে সে দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তি পাবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘এবং সে (ইউনুস আ.) অন্ধকারে থেকে তার প্রতিপালককে ডাকল।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৮৭)

স্বপ্নে শ্রেষ্ঠ দোয়া পড়তে দেখা, শ্রেষ্ঠ দ্বীন ধর্মের প্রতীক। দোয়া কুনুত পড়তে দেখা আল্লাহ তাআলার আনুগত্যের লক্ষণ। অধিক হারে আল্লাহর জিকির করতে দেখা আল্লাহ তাআলার সাহায্য প্রাপ্তির ইঙ্গিত। আল্লাহ বলেন, ‘তারা অধিক হারে আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করে এবং নিপীড়িত হওয়ার পর প্রতিশোধ গ্রহণ করে।’ (সুরা শুয়ারা, আয়াত: ২২৭)

আল্লাহর কাছে ইসতেগফার করতে দেখলে হালাল জীবিকা এবং ছেলেসন্তান লাভ করবে। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল।’ (সুরা নুহ, আয়াত: ১০)

নামাজ শেষ করে আল্লাহ তাআলার কাছে ইসতেগফার করতে এবং তার চেহারা কেবলার দিকে থাকতে দেখলে, তার দোয়া কবুল করা হবে। পক্ষান্তরে চেহারা কেবলার দিক ছাড়া অন্যদিকে থাকতে দেখলে, সে কোনো পাপ করবে এবং সেই পাপের কারণেই মারা যাবে। ইসতেগফার থেকে বিরত থাকতে দেখা, স্বপ্নদ্রষ্টার মুনাফিকির আলামত।

যদি কোনো নারীকে স্বপ্নে বলতে দেখে, ‘তুমি তোমার গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো’, তা হলে তাকে কোনো গুনাহ বা অশালীন কাজের জন্য অপবাদ দেওয়া হবে। এর প্রমাণ হলো, জুলেখার ঘটনা।

স্বপ্নে সুবহানাল্লাহ বলতে দেখলে, তার দুশ্চিন্তা এমনভাবে দূর হবে যে, সে কল্পনাও করতে পারবে না। ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়তে দেখলে স্বপ্নদ্রষ্টা দুশ্চিন্তা মুক্ত হবে, যাতে সে লিপ্ত আছে। এক পর্যায়ে শাহাদাতের অমীয় সুধায় সিক্ত হবে।

স্বপ্নে ‘আল্লাহু আকবার’ বলতে দেখলে, মনের কামনা-বাসনা পূরণ হবে। শত্রুদের ওপর বিজয় লাভ হবে। ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলতে দেখলে, স্বপ্নদ্রষ্টা আলো লাভ করবে এবং দীনের আলোকবর্তিকা লাভ করবে। আল্লাহর শোকর আদায় করতে দেখলে, স্বপ্নদ্রষ্টা অধিক নেয়ামত ও শক্তি লাভ করবে। স্বপ্নদ্রষ্টা যদি কোনো প্রশাসক হয়, তা হলে সে কোনো আবাদি ও স্বচ্ছল-সজীব এলাকার শাসক হবে। আল্লাহ বলেছেন, ‘এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। স্বাস্থ্যকর শহর এবং ক্ষমাশীল পালনকর্তা।’ (সুরা সাবা, আয়াত: ১৫)। (সূত্র: আল্লামা ইবনে সিরিনের ‘স্বপ্নের ব্যাখ্যা’ বই থেকে সংক্ষেপিত)।