logo

জিন কী, কেন সৃষ্টি করা হয়েছে

জিন কী, কেন সৃষ্টি করা হয়েছে

জিন শব্দটি আরবি ‘জিন্ন’ থেকে এসেছে। অর্থ আচ্ছন্ন বা মোহবিষ্ট করা। কারও ওপর পাগলামি ভর করলে বলা হয় ‘মজনু’। যার মূল শব্দ মাজনুন বা ভূতগ্রস্ত। অর্থ্যাৎ যাকে জিন আসর করেছে। কোরআনে জিন নামে একটি সুরাও আছে। 

জিনের আরেক অর্থ আবারণ। মানুষের আড়ালে রাখা হয়েছে তাদের। তাই মানুষ তাদের দেখতে পায় না। কোরআনে আছে, ‘সে (শয়তান) ও তার দলবল তোমাদের যেভাবে দেখতে পায়, তোমরা তাদের সেভাবে দেখতে পাও না।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ২৭)

ইসলামি ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী, জিন হলো অগ্নিদেহী, তাদের আগুনের শিখা থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তারা নানা আকার ধারণ করতে পারে। আল্লাহ বলেন, ‘আর তিনি (আল্লাহ) জিনদের সৃষ্টি করেছেন ধোঁয়াহীন অগ্নিশিখা থেকে।’ (সুরা রহমান, আয়াত: ১৫)

আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘খুব গরম বাতাসের ভাপ থেকে আমি জিন সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা হিজর, আয়াত: ২৭)

জিন সম্পর্কে অন্য ধর্ম কী বলে
অন্য ধর্মও জিনের কথা বলে। খ্রিস্টানরা মনে করে, সব জিনই ইবলিস শয়তান। তাদের মধ্যে কল্যাণ নেই। সৃষ্টিগতভাবে মানুষ থেকে শক্তিশালী তারা। মানুষের সব পাপের নেপথ্যে ক্রিয়াশীল তারা। তাদের অপবিত্র আত্মা বা শয়তানের আত্মা বলে ডাকা হয়। (আল-মাওসয়াতুল ইয়াহুদিয়া, খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ১৫২৬) 

ইহুদিদের ধর্মীয় বই ‘তালমুদে’ আছে, ‘শয়তান বা জিন একরকম নয়। তারা কয়েক ধরনের। তাদের ভিন্ন ভিন্ন উপাদান দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। কাউকে আগুন, কাউকে পানি, কাউকে বাতাস থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। মাটি থেকেও সৃষ্টি করা হয়েছে তাদের কাউকে কাউকে। সবার রুহ বা আত্মা চাঁদের আলোর এক বিশেষ ধরনের উপাদান দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে বলে তাদের ধারণা। (আসাতিতুল ইয়াহুদ, লুইস জিনযবার্গ, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ২১৩)  

জিনদের সৃষ্টির কারণ
মানুষের মধ্যে জিন নিয়ে নানা ধারণা ও কল্পকাহিনি আছে। সেটা প্রাচীন কাল থেকেই। তবে মানুষ, জিন ও ফেরেশতাদের জগৎ আলাদা আলাদা। পৃথিবীতে তাদের অস্ত্বি ছিল, আছে এবং থাকবে।

 

আল্লাহ মানুষ এবং জিনকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদতের জন্য। কিয়ামতের মধ্য দিয়ে মানুষ যেমন ধ্বংস হয়ে যাবে, তেমনি ধ্বংস হয়ে যাবে জিনরাও। হাশরের ময়দানে তাদেরও হিসাব হবে। তাদেরও বুঝিয়ে দেওয়া হবে ভালো-মন্দ কাজের প্রতিদান। কোরআনে আছে, ‘মানুষ ও জিনদের একমাত্র আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা জারিয়াত, আয়াত: ৫৬)

আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আমি জিন ও মানুষ (পাপী) দিয়ে জাহান্নাম ভরে ফেলব।’ (সুরা সিজদা, আয়াত: ১৩)