আত্মীয়স্বজনের যে আচরণে মৃত ব্যক্তিকে কবরে শাস্তি দেওয়া হয়

মৃত্যুর অনিবার্য স্বাদ প্রত্যেক প্রাণীকে গ্রহণ করতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।’ (সুরা আনয়াম, আয়াত: ১৮৫)। মুমিনের উচিত, মৃত্যুর জন্য সবসময় প্রস্তত থাকা। আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্য এক নির্দিষ্ট সময় আছে। যখন তাদের সেই নির্দিষ্ট সময় এসে পড়ে, তখন তারা এক মুহূর্তও বিলম্ব করতে পারবে না এবং এগিয়েও আনতে পারবে না।’ (সুরা আরাফ, আয়াত: ৩৪)
আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা যেখানেই থাক (একদিন না একদিন) মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই, চাই তোমরা সুরক্ষিত কোনোও দুর্গেই থাক না কেন।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৭৮)
প্রিয়জন বা নিটকাত্মীয় মারা গেলে মানুষ ব্যথিত হয়। কষ্ট অনুভব করে। কান্না করে। বিপদ বা কষ্ট পেলে ব্যথিত হওয়া বা কান্না করা মানুষের স্বভাবজাত বিষয়। ইসলাম এসব নিষিদ্ধ করেনি।
ইসলামে মৃত ব্যক্তির জন্য কাঁদা জায়েজ। হজরত মুহাম্মদ (সা.) প্রিয়জনদের বিচ্ছেদে ব্যথিত হয়েছেন। কেঁদেছেন। চোখের পানি ফেলেছেন। আনাস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ছেলে ইবরাহিম মারা গেলে তাঁর দুই চোখ থেকে অশ্রু ঝরছিল। আব্দুর রহমান ইবনে আউফ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল, আপনিও কান্না করছেন? তিনি বললেন, এটা রহমত ও দয়ার কারণে হয়। আমার অন্তর ব্যথিত হয়, চোখে অশ্রু আসে, তবে আমরা তাই বলব, যাতে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন। ইবরাহিম, তোমার বিচ্ছেদে আমরা সবাই ব্যথিত।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১২২৫)
মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করে কান্না করা, গালে চপেটাঘাত করা, জামাকাপড় ছেঁড়া নাজায়েজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে গালে চপেটাঘাত করে, জামাকাপড় ছিঁড়ে এবং জাহেলি (অন্ধ) যুগের আর্তনাদ করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১২৯৪)
ইমাম নববি (রহ.) বলেন, ‘মর্সিয়া-ক্রন্দন, বিলাপ করা, গালে চড় মারা, জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলা, চেহারাতে খামচি মারা, চুল ছেড়া ও হায়-হুতাশ করে আর্তনাদ করা; এই সবকিছু মাজহাবের আলেমদের সর্বসম্মতিক্রমে হারাম।’ (শারহুল মুহাজ্জাব, খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ২৮১)
শায়খ বিন বাজ (রহ.) বলেন, ‘প্রিয়জন মারা গেলে জীবিতদের ওপর আবশ্যকীয় হলো, ধৈর্যধারণ করা। আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনা করা। বিলাপ করে কান্না, জামাকাপড় ছেঁড়া ও গালে চপেটাঘাত করা যাবে না।’ মৃত ব্যক্তির নাজাতের জন্য দোয়া করতে হবে। তাঁর জন্য জান্নাতের প্রত্যাশায় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে হবে।
ইসলাম বিশেষজ্ঞদের মতে, মৃত ব্যক্তি যদি জানেন, মৃত্যুর পর আত্মীয়স্বজনরা তার জন্য বিলাপ করে কান্না করবে, তাহলে তার জন্য অসিয়ত করে যাওয়া আবশ্যক। অসিয়ত না করে গেলে বিলাপ করে কান্নাকাটির কারণে তার কবরে আজাব হবে। অসিয়ত করার পরও কান্নাকাটি করলে সে দায়মুক্ত থাকবে। তার কবরে আজাব হবে না।
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘মৃত ব্যক্তির বেদনায় কান্নাকাটি করা, চোখের পানি ফেলা নিষিদ্ধ নয়। তবে শরিয়তের সীমানা লঙ্ঘন করা যাবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বিকট শব্দে বা বিলাপ করে কান্না করতে নিষেধ করেছেন। জীবদ্দশায় ব্যক্তি যদি জানতেন, মৃত্যুর পর তার স্বজনরা তার জন্য বিলাপ করে কান্না করবে। এটা জানার পরও যদি তিনি তাদের নিষেধ না করেন, তাহলে তার কবরে আজাব হবে। এ রকম না হলে তার কবরে আজাব হবে না। যারা বিলাপ করছেন, তাদের গুনাহ হবে।
রাজধানী ধানমন্ডির মসজিদ-উত-তাকওয়ার খতিব মাওলানা সাইফুল ইসলাম আলোকিত জ্ঞানীর প্রশ্নোত্তর পর্বের এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘মৃতের আত্মীয়স্বজনের বিলাপ করে কান্না করলে মৃত ব্যক্তির জন্য দুজন ফেরেশতা নিযুক্ত করা হয়, যারা মৃত ব্যক্তিকে আঘাত করেন।’


