Advertisement

বিয়ের পর নারীরা চুড়ি, নাকফুল না পরলে স্বামীর অমঙ্গল হয়?

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
বিয়ের পর নারীরা চুড়ি, নাকফুল না পরলে স্বামীর অমঙ্গল হয়?
ছবি: সংগৃহীত

বিয়ে মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। এটি স্বাভাবিক জীবনের অনিবার্য প্রয়োজন। বিয়ে মানবসৃষ্ট কোনো চুক্তি নয়, বরং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক পবিত্র বিধান। পরিবার গঠনের ভিত্তি। মানুষের অস্তিত্ব রক্ষা ও নারী-পুরুষের জৈবিক চাহিদা পূরণে বৈধ মিলনের জন্য বিয়ের বিধান দিয়েছেন আল্লাহ। বিয়েবদ্ধ জীবনে রয়েছে শৃঙ্খলা। রয়েছে প্রশান্তি ও আত্মার তৃপ্তি। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তাঁর (আল্লাহ) নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই স্ত্রীদের সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে প্রশান্তি পাও। আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও মায়া সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা রুম, আয়াত: ২১)

আল্লাহ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা ও মায়া সৃষ্টি করেছেন। একজনকে আরেকজনের জন্য প্রশান্তির ঠিকানা বানিয়েছেন। স্বামী-স্ত্রীর প্রতি পরস্পরের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ‍ও দায়িত্ব নিয়ে সমাজে নানা কথা প্রচলিত আছে। পরস্পরকে জড়িয়ে মঙ্গল-অমঙ্গলের নানাবিধ কথা বলেন অনেকে। কেউ কেউ মনে করেন, স্ত্রী চুড়ি বা নাকফুল না পরলে স্বামীর অমঙ্গল হয়।

ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিয়ের পর স্ত্রী চুড়ি বা নাকফুল না পরলে স্বামীর অমঙ্গল হয়, এটি একবারেই মনগড়া ও ভিত্তিহীন একটি ধারণা। এটি কুসংস্কার—এগুলো বিশ্বাস করা যাবে না।

ঢাকা থেকে প্রকাশিত আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আল-কাউসারে ‘প্রচলিত ভুল’ সাব-হেডের এক শিরোনামে লেখা হয়েছে, ‘কোনো কোনো এলাকার মানুষকে বলতে শোনা যায়, বিয়ের পর স্ত্রী চুড়ি বা নাকফুল না পরলে স্বামীর হায়াত বা আয়ু কমে যায়। এটি একবারেই মনগড়া ও ভিত্তিহীন একটি ধারণা—একটি কুসংস্কার। এগুলো বিশ্বাস করা যাবে না।’

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে বিয়ের পর হাতে চুড়ি ও নাকে ফুল দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে কোনো অঞ্চলে যদি হাতে চুড়ি বা নাকে ফুল পরাকে বিবাহিত নারীর প্রতীক ধরা হয়, তাহলে পরতে পারবে। এটা জায়েজ-নাজায়েজের কোনো বিষয় নয়। হাতে চুড়ি বা নাকে ফুল না পরলে স্বামীর অমঙ্গল হবে, এটি ভিত্তিহীন কথা—কুসংস্কার।’

ইসলাম নারীদের অলংকার পরাকে আবশ্যক করেনি। অলংকার পরিধান করতে উৎসাহ দেওয়া হয়নি। নিষেধও করা হয়নি। নারীরা তাদের ইচ্ছা ও রুচি অনুযায়ী অলংকার পরিধান করতে পারবেন, নাও করতে পারবেন।