logo

শবেকদরের ফজিলত ও ওজনে কম দেওয়ার পরিণাম

শবেকদরের ফজিলত ও ওজনে কম দেওয়ার পরিণাম
সৌদি আরবে মদিনার মসজিদে নববিতে ২৭তম তারাবি নামাজ পড়ছেন মুসল্লিরা। সংগৃহীত ছবি

আজ খতমে তারাবিতে পবিত্র কোরআনের শেষ পারা তথা ৩০তম পারা তেলাওয়াত করা হবে। এ পারার মাধ্যমে খতমে তারাবি শেষ হবে। আজকের তারবিতে সুরা নাবা, নাজিয়াত, আবাসা, তাকভির, ইনফিতার, মুতাফফিফিন, ইনশিকাক, বুরুজ, তারিক, আলা, গাশিয়া, ফাজর, বালাদ, শামস, লাইল, দুহা, ইনশিরাহ, তিন, আলাক, কদর, বাইয়িনা, জিলজাল, আদিয়া, কারিয়া, তাকসুর, আসর, হুমাজা, ফিল, কোরাইশ, মাউন, কাউসার, কাফিরুন, নসর, লাহাব, ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়া হবে। সুরা বাইয়িনা, জিলজাল, নাসর, ফালাক ও নাস ছাড়া সবকটি সুরা মক্কায় অবতীর্ণ। 

ঘুমানোর সময় রাত 
আল্লাহর এক বিশেষ নিয়ামত ঘুম। ঘুম শরীরের ক্লান্তি দূর করে, মনে প্রশান্তি আনে এবং কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি করে। কিন্তু আজকাল মানুষ গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকে। বিভিন্ন অহেতুক কাজে সময়ক্ষেপণ করে। কারও কারও ঘুমাতে সকাল হয়ে যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) এশার আগে ঘুমানো এবং এশার পর না ঘুমিয়ে গল্পগুজব করা অপছন্দ করতেন। সুরা নাবার ৯ থেকে ১১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘আমি তোমাদের বিশ্রামের জন্য নিদ্রা দিয়েছি, তোমাদের জন্য রাতকে করেছি আবরণস্বরূপ, আর দিনকে বানিয়েছি তোমাদের কাজের জন্য।’

সুরা নাজিয়াত, আবাসা, তাকভির ও ইনফিতারের বিষয়বস্তু
উল্লিখিত চারটি সুরায় কিয়ামতের বিভিন্ন অবস্থা ও ভয়াবহতার বিবরণ,  কিয়ামত অস্বীকারকারীদের ফেরাউনের পরিণতির কথা চিন্তা করতে নির্দেশ, ফেরেশতাদের নিয়ে কসম, অন্ধ সাহাবি আবদুল্লাহ উম্মে মাকতুম (রা.)-কে ঘিরে বিধান, জান্নাত-জাহান্নামির পরিচয়, আল্লাহর একত্ববাদ, কিয়ামতে কেউ কারও উপকারে না আসা, কোরআন ও নবীজির সত্যতা, লিপিকর ফেরেশতা কর্তৃক মানুষের আমল লিপিবদ্ধ করা ও উপদেশ ইত্যাদির বয়ান আছে। 

ওজনে কম দেওয়া ভয়াবহ পাপ
ব্যবসায়-বাণিজ্য ও লেনদেনের ক্ষেত্রে ওজনে কমবেশি করা বা ঠকানোর মাধ্যমে জীবিকা উপার্জন একটি জঘন্য অপরাধ। শোয়াইব (আ.)-এর জাতির ওপর আজাব এসেছিল বিশেষভাবে পরিমাপ ও ওজনে অসততার কারণে। তাই এ ধরনের প্রতারণা থেকে বেঁচে থাকা উচিত। আল্লাহ সুরা মুতাফফিফিনের ১ নম্বর আয়াতে বলেন, ‘যারা মাপে কম দেয়, তাদের জন্য দুর্ভোগ।’ 

সুরা ইনশিকাক থেকে আলাকে যেসব বিষয়ের বয়ান আছে
সুরা ইনশিকাক, বুরুজ, তারিক, আলা, গাশিয়া, ফাজর, বালাদ, শামস, লাইল, দুহা, ইনশিরাহ, তিন ও আলাকে পরিখা খননকারীদের কাহিনি, কিয়ামতের দিন মানুষের কৃতকর্মের ফল পাওয়া, কারা সৌভাগ্যবান, কোরআনের মহত্ব ও বড়ত্ব, আল্লাহর গুণকীর্তন, উপদেশ, সৃষ্টিজীবে আল্লাহর পরিচয়, মানুষের জন্য তত্ত্বাবধায়ক ফেরেশতা নিযুক্ত করা, মানুষ সৃষ্টির মূল উপাদান নিয়ে গবেষণার আদেশ, কাফেরদের প্রতি সতর্কবার্তা, ধ্বংসপ্রাপ্ত বিভিন্ন জাতির প্রতি ইঙ্গিত, নেক আমল, ভালো কাজের প্রতি উৎসাহ, তাকওয়া, আমল অনুযায়ী ফলাফল, দুঃখ-কষ্ট জীবনের অংশ, অহংকারী কাফের, নবীজির প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টি, মানুষের সৌন্দর্য, পড়া, সম্পদের কারণে মানুষের বিপদের আলোচনা রয়েছে। 

হাজার মাসের চেয়ে উত্তম যে রাত 
কোরআনের ৯৭তম সুরা কদর মক্কায় অবতীর্ণ। এ সুরার আয়াত সংখ্যা ৫। এ সুরায় আল্লাহ তাআলা কদরের রাতের শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনা দিয়েছেন। কদরের রাত সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ। কোরআন ও হাদিসে কদরের রাতকে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম বলা হয়েছে। মানবজাতির সম্মানে এ রাতে ফেরেশতারা ভূপৃষ্ঠে নেমে আসেন। আল্লাহ তাআলা এ রাতে পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ করেছেন। এ রাতে পবিত্র কোরআন লাওহে মাহফুজ থেকে দুনিয়ার আসমানে আনা হয়। এ রাতে ফজর পর্যন্ত আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়। 

যা আছে সুরা বাইয়িনা থেকে তাকাসুরে
ইখলাস, মুমিন-কাফের, কিয়ামতের আগের ভূমিকম্প, নবীজির রিসালাত ও নবুওয়তে কিতাবিদের অবস্থান, দুনিয়ার প্রতি মানুষের অতিরিক্ত আসক্তি, মানুষের অকৃজ্ঞতা ইত্যাদি বিষয়ের বর্ণনা আছে সুরা বাইয়িনা, জিলজাল, আদিয়া, কারিয়া ও তাকাসুরে। 

সুরা আসরে কালের শপথ
এ সুরার শুরুতে আল্লাহ শপথ নিয়েছেন সময়ের। যাতে মানুষ সময়ের গুরুত্ব উপলব্ধি করে এর যথাযথ ব্যবহারে সচেতন হয়। দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ বলছেন, ‘নিঃসন্দেহে সব মানুষই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে।’ এর পরের আয়াতে আল্লাহ বাঁচার উপায় বলে দিয়েছেন, যা পালন করলে মানুষ ক্ষতিমুক্ত হবে। এক. ‌ঈমান। দুই. সৎকাজ। সৎকাজের মধ্যে সব ধরনের ভালো কাজই অন্তর্ভুক্ত। তিন. পরস্পরকে সত্যের উপদেশ ও চার. পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ। 

এ ছাড়া হুমাজা, ফিল, কোরাইশ, মাউন, কাউসার, কাফিরুন, নসর, লাহাব, ইখলাস, ফালাক ও নাসে কারও অগোচরে দোষ চর্চা, খোঁটা, বিদ্রুপ, দুনিয়াপ্রীতি, জাহান্নামের আজাব, হস্তিবাহিনীর গল্প, ব্যবসা, নেয়ামত,  কাফেরের দোষক্রটি, মুমিনের গুণাবলি, ইমানের সঙ্গে কুফরের সংমিশ্রণ নেই, তাসবিহ, ইসতেগফার, নবীজিকে হাউজে কাউসার প্রদান, নামাজ, কোরবানি, আবু লাহাব ও তার স্ত্রী উম্মে জামিলের পরিণতি, আল্লাহর পরিচয়, সৃষ্টির সবকিছুর অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় ইত্যাদি বিষয়ের বর্ণনা আছে।