স্বপ্ন নিয়ে মিথ্যা বলার যে কঠিন শাস্তি

ঘুমের মধ্যে মানুষ নানা রকম স্বপ্ন দেখে। সুন্দর স্বপ্ন মানুষকে আনন্দ দেয়। দুঃস্বপ্ন মানুষকে অস্থির করে তোলে। সত্য ও ভালো স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়। তাই আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে হবে। মন্দ স্বপ্ন হয় শয়তানের পক্ষ থেকে। তখন আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে হবে। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ভালো স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে। তোমাদের মধ্যে যে ভালো স্বপ্ন দেখে সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে এবং তা মানুষের কাছে প্রকাশ করে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২২৬১)।
মন্দ স্বপ্ন দেখলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে হাদিসে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মন্দ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে। মন্দ স্বপ্ন দেখলে শয়তানের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাইবে।
স্বপ্ন হলো অদৃশ্যের সংবাদ। অনেকেই আছেন, স্বপ্ন দেখলে তা প্রিয় মানুষের কাছে বলে বেড়ান। সবার কাছে স্বপ্নের কথা বলা উচিত নয়। অন্যদের খুশি করতে কেউ কেউ আবার বানিয়ে স্বপ্নের কথা বলেন। স্বপ্নের বিষয়ে কারও কাছে মিথ্যা বলা বিরাট পাপ ও গুরুতর অন্যায়।
কোনো মুসলিমের জন্য অবাস্তব ও মিথ্যা স্বপ্ন বর্ণনা করা উচিত নয়। কারণ এমনিতেই মিথ্যা হলো জঘন্যতম অপরাধ। তার ওপর সেই মিথ্যা যদি হয় স্বপ্নকেন্দ্রিক, তাহলে সেটি হয়ে ওঠে আরও জঘন্যতম। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘সবচেয়ে বড় মিথ্যা হলো, কোনো ব্যক্তি নিজেকে তার পিতা ছাড়া অন্যের সন্তান বলে দাবি করা, যে স্বপ্ন সে দেখেনি তা বর্ণনা করা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) যা বলেননি তা তাঁর সম্পর্কে বলে বেড়ানো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৫০৯)
ইবনে উমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সবচেয়ে নিকৃষ্ট মিথ্যা হলো, না দেখা কোনো বিষয় নিজ চোখে দেখার দাবি করা।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৬৩৬)
যারা স্বপ্ন দেখা নিয়ে মিথ্যা দাবি করবে, কেয়ামতের দিন তাদের শাস্তি চলমান থাকবে। স্বপ্নের বিবরণ দেওয়ার বেলায় মানুষের উচিত, সত্যবাদিতা অবলম্বন করা। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে স্বপ্ন না দেখেও স্বপ্ন দেখার ভান করবে (মিথ্যা বর্ণনা দেবে), তাকে দুটি গমের মাঝে গিরা দিতে বলা হবে, অথচ তা সে করতে পারবে না। যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের কথা কান পেতে শুনল, অথচ তারা তাকে তা শোনাতে চায়নি; তাহলে তার কানে কেয়ামতের দিন সিসা ঢালা হবে। যে ছবি অঙ্কন করবে কেয়ামতের দিন তাকে শাস্তি দেওয়া হবে এবং তাকে বলা হবে, তাতে রুহ বা আত্মা সঞ্চার করতে; অথচ সে তা করতে সক্ষম হবে না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৬৩৫)
স্বপ্নে রাসুলুল্লাহ (সা.) বা সাহাবিরা যা দেখতেন, তা খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিতেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশায় কোনো ব্যক্তি স্বপ্ন দেখলে তা তাঁর কাছে বর্ণনা করত।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৫৩০)
ইসলামে স্বপ্নের গুরুত্ব অনেক। মুমিনের স্বপ্ন নবুওয়তের ৪০ ভাগের এক ভাগ। উবাদা ইবনে সামিত (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিনের স্বপ্ন নবুওয়তের ৪৬ ভাগের এক ভাগ।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৫৮৭)



