রোজা ও রমজান বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৯ হাদিস

প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর রোজা রাখা ফরজ। আল্লাহ বলেন, ‘তোমারদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের আগেরকার মানুষদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল। যেন তোমরা তাকওয়া (আল্লাহভীতি) অর্জন করতে পারো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৩)। এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানুষের ওপর কেন রোজা ফরজ করেছেন, এর কারণ বলেছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিভিন্ন বর্ণনায় রমজান ও রোজা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এখানে রোজা ও রমজান বিষয়ে নয়টি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস উল্লেখ করা হলো—
রোজাদারের আগে-পরের গোনাহ মাফ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ইমান ও সওয়াবের আশায় রমজান মাসের রোজা পালন করবে, তার আগের ও পরের গোনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৮)
রোজাদারের জন্য আছে জান্নাতের দরজা ‘রাইয়ান’
عَنْ سَهْلٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّ فِي الجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ يَدْخُلُ مِنْهُ الصَّائِمُونَ يَوْمَ القِيَامَةِلاَ يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ يُقَالُ: أَيْنَ الصَّائِمُونَ فَيَقُومُونَ لاَ يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ فَإِذَا دَخَلُوا أُغْلِقَ فَلَمْ يَدْخُلْ مِنْهُ أَحَدٌ
সাহল বিন সাদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জান্নাতের একটি দরজা আছে, একে রাইয়ান বলা হয়। এই দরজা দিয়ে কেয়ামতের দিন একমাত্র রোজাদার ব্যক্তিই জান্নাত প্রবেশ করবে। তাদের ছাড়া অন্য কেউ এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। সেদিন এই বলে আহ্বান করা হবে, রোজাদাররা কোথায়? তাদের ছাড়া যেন কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ না করে। রোজাদাররা ভেতরে প্রবেশ করার পর দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। অতপর এ দরজা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করবে না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৮৯৬)
রোজা ঢালস্বরূপ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : الصِّيَامُ جُنَّةٌ فَلاَ يَرْفُثْ وَلاَ يَجْهَلْ وَإِنِ امْرُؤٌ قَاتَلَهُ أَوْ شَاتَمَهُ فَلْيَقُلْ: إِنِّي صَائِمٌ
আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘রোজা ঢালস্বরূপ। তোমাদের কেউ রোজা রাখলে তার মুখ থেকে যেন অশ্লীল কথা বের না হয়। কেউ যদি তাকে গালমন্দ করে অথবা ঝগড়ায় প্ররোচিত করতে চায় সে যেন বলে, আমি রোজাদার।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৮৯৪)
রোজার প্রতিদান দেন আল্লাহ
عَنْ اَبِىْ أَبَا هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: قَالَ اللَّهُ : كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلَّا الصِّيَامَ فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ وَالصِّيَامُ جُنَّةٌ وَإِذَا كَانَ يَوْمُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ فَلاَ يَرْفُثْ وَلاَ يَصْخَبْ فَإِنْ سَابَّهُ أَحَدٌ أَوْ قَاتَلَهُ فَلْيَقُلْ إِنِّي امْرُؤٌ صَائِمٌ
আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘রোজা ছাড়া আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তার নিজের জন্য, কিন্তু রোজা আমার জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব। রোজা ঢালস্বরূপ। তোমাদের কেউ যেন রোজা রাখার সময় অশ্লীলতায় লিপ্ত না হয় এবং ঝগড়া-বিবাদ না করে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় অথবা তার সঙ্গে ঝগড়া করে, তাহলে সে যেন বলে, আমি রোজাদার।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৯০৪)
এ মাসে আছে এক মহান রাত
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَتَاكُمْ رَمَضَانُ شَهْرٌ مُبَارَكٌ فَرَضَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَيْكُمْ صِيَامَهُ تُفْتَحُ فِيهِ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَتُغْلَقُ فِيهِ أَبْوَابُ الْجَحِيمِ وَتُغَلُّ فِيهِ مَرَدَةُ الشَّيَاطِينِ لِلَّهِ فِيهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ مَنْ حُرِمَ خَيْرَهَا فَقَدْ حُرِمَ
আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কাছে রমজান মাস উপস্থিত। এটা অত্যন্ত বরকতময় মাস। আল্লাহ তাআলা এ মাসে তোমাদের প্রতি রোজা ফরজ করেছেন। এ মাসে আকাশের দরজাসমূহ উন্মুক্ত হয়ে যায়, এ মাসে জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এ মাসে বড় বড় শয়তানগুলো আটকে রাখা হয়। আল্লাহর জন্য এ মাসে একটি রাত আছে, যা হাজার মাসের চেয়েও অনেক উত্তম। যে এ রাতের মহাকল্যাণ লাভ থেকে বঞ্চিত থাকল, সে সত্যিই বঞ্চিত ব্যক্তি।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ২১০৬)
জান্নাত লাভের আমল
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ آمَنَ بِاللهِ وَرَسُولِهِ وَأَقَامَ الصَّلاَةَ وَصَامَ رَمَضَانَ كَانَ حَقًّا عَلَى اللهِ أَنْ يُدْخِلَهُ الجَنَّةَ
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ইমান আনল, নামাজ পড়ল, জাকাত আদায় করল, রমজানের রোজা রাখল, তার জন্য আল্লাহর ওপর সে বান্দার অধিকার হলো তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৮২৩)
খুলে দেওয়া হয় জান্নাতের দরজা
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا دَخَلَ رَمَضَانُ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ الجَنَّةِ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ جَهَنَّمَ وَسُلْسِلَتِ الشَّيَاطِينُ
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন রমজান আসে, তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের আবদ্ধ করা হয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১০৭৯)
ক্ষমা লাভের মহাসুযোগ
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَرَغِمَ أَنْفُ رَجُلٍ دَخَلَ عَلَيْهِ رَمَضَانُ ثُمَّ انْسَلَخَ قَبْلَ أَنْ يُغْفَرَ لَهُ
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ওই ব্যক্তির নাক ধুলায় ধূসরিত হোক―যার কাছে রমজান মাস এসে চলে গেল, অথচ তার পাপগুলো ক্ষমা করিয়ে নিতে পারল না।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৩৫৪৫)
ওমরা করা নবীজির (সা.) সঙ্গে হজের সমতুল্য
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: فَعُمْرَةٌ فِي رَمَضَانَ تَقْضِي حَجَّةً أَوْ حَجَّةً مَعِي
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রমজাম মাসে ওমরা করা আমার সঙ্গে হজ আদায় করার সমতুল্য।’