logo
Advertisement

যে হাজির জন্য সুনিশ্চিত জান্নাতের ঘোষণা

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
যে হাজির জন্য সুনিশ্চিত জান্নাতের ঘোষণা
মক্কার কাবাঘর ঘিরে তাওয়াফ করছেন হাজিরা। ছবি: সংগৃহীত

হজ ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি। হজ মুসলমানদের বিশ্ব সম্মেলন। পৃথিবীর সামর্থ্যবান মুসলমানরা হজকে কেন্দ্র করে মক্কায় জড়ো হন। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘মানুষের মধ্যে হজের ঘোষণা দিন। তারা আপনার কাছে আসবে হেঁটে ও সর্বপ্রকার ক্ষীণকায় উটসমূহের পিঠে (আরোহণ করে), তারা আসবে দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রম করে।’ (সুরা হজ, আয়াত: ২৭)

নিয়তসহ ইহরাম পরে নির্দিষ্ট দিনে আরাফার ময়দানে অবস্থান ও কাবা শরিফ তওয়াফ করা হলো হজ। (ফতোয়ায়ে শামি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৪৫৪)। জিলহজের ৮ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত পাঁচ দিন হজ পালন করা হয়। হজের কাজ সম্পন্ন করতে হয় পবিত্র কাবা, সাফা-মারওয়া, মিনা, আরাফা ও মুজদালিফায়। দূরের হাজিদের জন্য মদিনায় হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা জিয়ারত করা ওয়াজিব।

আর্থিক ও দৈহিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক সামর্থ্যবান মানুষের ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাবাঘরের হজ করা ফরজ।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯৭)

সামর্থ্যবান কেউ একাধিকবার হজ করলে প্রথমটি ছাড়া অন্যগুলো নফল হজ হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে লোকসকল, আল্লাহ তাআলা তোমাদের ওপর হজ ফরজ করেছেন। আকরা ইবনে হাবিস (রা.) দাঁড়িয়ে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, এটা কি প্রত্যেক বছর ফরজ?’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘আমি যদি হ্যাঁ বলতাম, তবে ফরজ হয়ে যেত। প্রতি বছর হজ ফরজ হলে তা তোমরা সম্পাদন করতে সক্ষম হতে না। এ জন্য হজ জীবনে একবারই ফরজ। কেউ যদি একাধিকবার করে, তবে তা হবে নফল হজ।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭২৮৮)

মানুষকে নিষ্পাপ করে হজ

লোক দেখানো কিংবা সম্মান অর্জনের জন্য হজ করা যাবে না। হজ করতে হবে আল্লাহকে খুশি করার জন্য। আল্লাহকে পাওয়ার জন্য। একইসঙ্গে হজের সময় বিরত থাকতে হবে অশ্লীলতা ও গুনাহ থেকে। তাহলেই মিলবে আল্লাহর পক্ষ থেকে বড় প্রতিদান। ব্যক্তি নবজাতক শিশুর মতো গুনাহমুক্ত পবিত্র হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ করল এবং এ সময় অশ্লীলতা ও গুনাহের কাজ থেকে বিরত থাকল, সে যেন নবজাতক শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরল।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৫২১)

হজে মেলে জান্নাত

প্রতিটি মুমিন-মুসলমানের আজীবন লালিত স্বপ্ন থাকে জান্নাতে যাওয়ার। জান্নাতই মুমিনের আসল ঠিকানা। গ্রহণযোগ্য হজে পাওয়া যায় জান্নাত। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এক ওমরাহ আরেক ওমরাহ পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের ক্ষতিপূরণ হয়ে যায়। আর গ্রহণযোগ্য হজের প্রতিদান তো জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৭৭৩)

আগের গুনাহ মাফ

অন্যায় আচরণ ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থেকে হজ করলে আগের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি হজে কোনো অশ্লীল ও অন্যায় আচরণ করে না, তার আগের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৮১১)

হজ শ্রেষ্ঠ আমল

আল্লাহ তাআলা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ইমান আনার পর জিহাদ ও হজকে সর্বোত্তম আমল বলা হয়েছে। একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘সর্বোত্তম আমল কোনটি? তিনি বললেন, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ইমান আনা।’ প্রশ্ন করা হলো, এরপর কোনটি? তিনি বললেন, ‘আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।’ আবার প্রশ্ন করা হলো, ‘এরপর কোনটি?’ তিনি বললেন, ‘গ্রহণযোগ্য হজ।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৫১৯)

হজ না করলে যে পাপ হয়

সামর্থ্য থাকার পরও হজ না করা গুনাহের কাজ। এতে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন। তার প্রতি আল্লাহর কোনো দায়িত্ব থাকে না। ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেন, ‘যে হজ করার সামর্থ্য রাখে, তবু হজ করে না, সে ইহুদি না খ্রিষ্টান হয়ে মৃত্যুবরণ করল, তার কোনো পরোয়া আল্লাহর নেই।’ (তাফসিরে ইবনে কাসির, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৫৭৮)