আগুনে পুড়ে মৃতদের নিয়ে যা বলেছেন মহানবী (সা.)

মানুষের মৃত্যু অবধারিত। মানুষের বেঁচে থাকাটা অস্বাভাবিক, কিন্তু মৃত্যু খুবই স্বাভাবিক। পৃথিবীর প্রথম মানুষ থেকে শুরু করে নির্ধারিত জীবনযাপনের পর কেউ আর বেঁচে নেই।
মৃত্যুর কবল থেকে জগতের কোনো তাবৎ পরাশক্তি, কোনো প্রযুক্তি কাউকে বাঁচাতে পারবে না। মৃত্যুর কাছে সবাই অক্ষম। মৃত্যুর নির্ধারিত সময় থেকে এক সেকেন্ডও বেশি বেঁচে থাকার ক্ষমতা কারও নেই। মৃত্যুর অনিবার্য স্বাদ প্রত্যেক প্রাণীকে গ্রহণ করতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।’ (সুরা আনয়াম, আয়াত: ১৮৫)
আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা যেখানেই থাক (একদিন না একদিন) মৃত্যু তোমাদের নাগাল পাবেই, চাই তোমরা সুরক্ষিত কোনোও দুর্গেই থাক না কেন।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৭৮)
সবাই স্বাভাবিক মৃত্যু কামনা করে। কিন্তু সবার স্বাভাবিক মৃত্যু হয় না। কেউ অসুখে, কেউ দুর্ঘটনায়, আবার কেউ প্রাকৃতিক দুর্যোগে মারা যায়। আগুনে পুড়ে মৃত্যু তেমনই এক বেদনাদায়ক ঘটনা।
ইসলামি শরিয়তে বিশেষ ধরনের কিছু মৃত্যুকে শাহাদাত বা শহীদের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘কিছু ব্যক্তি আখেরাতে শহীদের মর্যাদা লাভ করবে, যদিও তারা দুনিয়াতে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হয়নি।’
ইসলামের জন্য যুদ্ধ করতে গিয়ে যারা মৃত্যুবরণ করেন, তারা শহীদ। তাদের ছাড়া আরও সাত ধরনের ব্যক্তিকে শহীদ বলেছেন মহানবী (সা.)। যেমন-
- মহামারিতে মৃত্যুবরণকারী।
- পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণকারী।
- ফুসফুসের রোগে মৃত্যুবরণকারী।
- পেটের পীড়ায় বা রোগে মৃত্যুবরণকারী।
- আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণকারী।
- ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যুবরণকারী।
- সন্তান প্রসবের সময় মৃত্যুবরণকারী নারী।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর পথে মৃত্যুবরণ করা ছাড়াও সাত ধরনের শহীদি মৃত্যু রয়েছে। যেমন: প্লেগ-মহামারিতে মৃত্যুবরণকারী, পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণকারী, শয্যাশায়ী অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী, পেটের অসুখে মৃত্যুবরণকারী, আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণকারী, ভূমি, ভবন বা দেয়াল ধসে মৃত্যুবরণকারী এবং প্রসবজনিত কষ্টে মৃত্যুবরণকারী।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ১৮৪৬)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘পানিতে ডুবে, কলেরায়, প্লেগে ও ভূমিধসে বা চাপা পড়ে মৃতরা শহীদ।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭২০)
হাদিস থেকে বোঝা যায়, আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণকারী শহীদ। সে আল্লাহর কাছে বিশেষ মর্যাদা পাবে। শহীদের মতো সওয়াব পাবে। মূলত ব্যক্তি এ মর্যাদা পাবে আখেরাতের হিসেবে। তার জানাজা, কাফন-দাফন করতে হবে সাধারণ মৃত ব্যক্তির মতোই। যারা ইসলামের জন্য যুদ্ধে গিয়ে শহীদ হয়, তাদের গোসল দেওয়া হয় না। কিন্তু এ ছাড়া অন্য সাত প্রকার শহীদদের গোসল দিতে হবে।
কেউ যদি আত্মহত্যার জন্য আগুনে পুড়ে মারা যায়, তাহলে তা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। ইসলাম আত্মহত্যাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে এবং এর জন্য কঠিন শাস্তির কথা বলা হয়েছে। সুতরাং অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা বা প্রাকৃতিক কারণে আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণকারী শহীদের মর্যাদা পাবেন।

