অনুমান করে কথা বললে কি গুনাহ হবে

নিশ্চিতভাবে না জেনে কোনো বিষয়ে অনুমান করে কথা বলা অন্যায়। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে কথা ও সংবাদের সত্যতা ও যথার্থতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন। নিষেধ করেছেন আন্দাজে ও অনুমান করে কথা বলতে। না জানা ও ধারণাপ্রসূত বিষয়কে সঠিক ও নিশ্চিত বিষয়ের মতো বলা মারাত্মক অপরাধ। আল্লাহ বলেন, ‘যে বিষয়ে তোমার নিশ্চিত জ্ঞান নেই (তাকে সত্য মনে করে) তার পেছনে পড়ো না। জেনে রেখো, কান, চোখ ও অন্তর এর প্রতিটি সম্পর্কে (তোমাদের) জিজ্ঞেস করা হবে।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ৩৬)
জানা ছাড়া বিষয়ে কথা বলতে গেলে ভুল হওয়াই স্বাভাবিক। এ থেকে নানান ফেতনা সৃষ্টি হয়। বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। নিশ্চিতভাবে না জেনে ধারণা ও অনুমান করে কথা বলা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষেধ। কাফের মুশরিকদের স্বভাব ছিল, তারা আল্লাহর নামে বানিয়ে বানিয়ে কথা বলত। আল্লাহ বলেন, ‘যেসব বস্তু সম্পর্কে তোমাদের জিহ্বা মিথ্যা রচনা করে, সে সম্পর্কে বলো না, এটা হালাল এবং এটা হারাম। কেননা তার অর্থ হবে, তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছ। জেনে রেখো, যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দেয়, তারা সফলকাম হয় না।’ (সুরা নাহল, আয়াত: ১১৬)
যে বিষয়ে জানা নেই, সে বিষয়ে জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস করতে হবে। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘যদি তোমাদের জানা না থাকে, তবে জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করে নাও।’ (সুরা নাহল, আয়াত: ৪৩)
সামাজিক ক্ষেত্রে ধারণার ভিত্তিতে কথা বললে পরস্পরে ভুল বোঝাবুঝি হবে, কলহ বিবাদ ছড়িয়ে পড়বে। অন্যের বিষয়ে অপবাদ দেওয়া হবে, মিথ্যা বলা হবে এবং গিবত করা হবে। এর প্রত্যেকটিই কবিরা গুনাহ। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা, অনেক রকম অনুমান থেকে বেঁচে থাক। কোনো কোনো অনুমান গুনাহ। তোমরা কারও গোপন ত্রুটির অনুসন্ধানে পড়বে না এবং তোমাদের একে অন্যের গিবত করবে না।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ১২)
রাসুলুল্লাহ (সা.) অন্যায় ধারণা থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘তোমরা ধারণা থেকে বেঁচে থাকো, কারণ ধারণা সবচেয়ে বড় মিথ্যা।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০৬৬)
ধারণার ভিত্তিতে কথা বলা যেমন নিষেধ, তেমনি শোনা কথা বলাও নিষেধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কারও মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তা-ই প্রচার করতে থাকে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫)
আরেক হাদিসে এসেছে, ‘গুনাহগার হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তা-ই প্রচার করতে থাকে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯৯)
অন্যায় কথা বলা যেমন নিষেধ, অন্যায় কথা শোনাও নিষেধ। মিথ্যা কথা বলা ও শোনা, গিবত করা ও শোনা, অপবাদ দেওয়া ও শোনা, অন্যায় সাক্ষ্য দেওয়া ও শোনা ইত্যাদি সবই নিষেধ। চোখ-কানকে অন্যায় কাজে ব্যবহার করা জায়েজ নেই।


