মৃত বাবা-মায়ের জন্য যে ২ আমল করবেন

পৃথিবীতে একজন মানুষের ওপর সবচেয়ে বেশি দয়া ও অনুগ্রহ থাকে বাবা-মায়ের। মা সন্তানকে গর্ভে ধারণ করেন, স্তন্যদান করেন, কোলে-পিঠে করে মানুষ করেন। বাবা দিন-রাত পরিশ্রম করে তার ভরণপোষণের ব্যবস্থা করেন। তার বেড়ে ওঠায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেন। সন্তানের উচিত মা-বাবার দিকনির্দেশনা মেনে চলা, তাদের সর্বাত্মক খুশি রাখার চেষ্টা করা, অসুস্থতায় তাদের সেবা করা। অনেকে জানতে চান, বাবা-মায়ের মৃত্যু হলে তাদের জন্য সন্তান হিসেবে কি করা যেতে পারে। এমন কোন আমল আছে, যেগুলো করলে মৃত বাবা-মায়ের কাজে আসবে। আল্লাহ তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন। সন্তানের যেসব কাজে মৃত বাবা-মায়ের মর্যাদা বৃদ্ধি হয়, তাদের গোনাহ মাফ হয়, এখানে দুটি আমল উল্লেখ করা হলো—
বাবা-মায়ের জন্য দোয়া করা
সন্তানের দোয়া মৃত বাবা-মায়ের কাজে লাগে। এতে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি হয়। তাদের গোনাহ ক্ষমা করা হয়। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা লাভ করে বলবে, আমরা এত মর্যাদার অধিকারী কীভাবে হলাম?’ তাকে বলা হবে, ‘তোমার জন্য তোমার সন্তানের দোয়া ও ইসতেগফারের কারণে তুমি এত মর্যাদা পেয়েছ।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন মানুষ মারা যায়, তখন তার আমল স্থগিত হয়ে যায়, শুধু তিনটি আমল ছাড়া— এক. সদকায়ে জারিয়া, দুই. এমন জ্ঞান যা থেকে মানুষ উপকৃত হয়, তিন. এমন নেক (ভালো) সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৬৩১)। এজন্য মৃত বাবা-মায়ের জন্য বেশি বেশি দোয়া করতে হবে। তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন, তিনি ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করো না। বাবা-মার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো। তাদের একজন বা তাদের উভয়ে যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদের বিরক্তি বা অবজ্ঞাসূচক কথা বলো না, আর তাদের ভৎর্সনা করো না। তাদের সঙ্গে সম্মানজনক কথা বলো। তাদের জন্য সদয়ভাবে নম্রতার বাহু প্রসারিত করে দাও আর বলো—
উচ্চারণ: রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সগিরা।
অর্থ: ‘হে আমার প্রতিপালক, তাদের প্রতি দয়া করো যেমনভাবে তারা আমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছেন।’ (সুরা ইসরা, আয়াত: ২৩-২৪)
দান-সদকা করা
বাবা-মায়ের নামে দান-সদকা করলে তাদের উপকারে আসে। তাদের মর্যাদা উন্নীত হয়। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘এক ব্যক্তি নবী (সা.)-কে বলেন, ‘আমার বাবা মারা গেছেন। তিনি সম্পদ রেখে গেছেন, তবে কোনো অসিয়ত করে যাননি। আমি যদি তার জন্য সদকা করি, তবে কি তার পাপ মার্জনা হবে?’ তিনি বললেন, হ্যাঁ।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪০০১)। এ ছাড়াও অন্যান্য যত ভালো কাজ বাবা-মায়ের জন্য করা হবে, তারা এর সওয়াব পাবেন। এর বিনিময়ে তাদের মর্যাদা উন্নীত হবে।
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘মা-বাবার মৃত্যুর পরও সন্তানের কিছু কিছু আমলের প্রভাব তাদের ওপর পড়ে। এর মধ্যে প্রধানতম আমল হলো, সন্তান নিজে যদি ভালো কাজ করে এবং পাশাপাশি মা-বাবার জন্য দোয়া করে। এটা মা-বাবার জন্য বেশি উপকার হয়। মনে রাখতে হবে, সন্তানের দোয়া মা-বাবার জন্য সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে। দ্বিতীয়ত, মা-বাবার জন্য দান-সদকা করা।’
তিনি বলেন, ‘হাদিসে আছে, কোনো কোনো কবরবাসীকে আল্লাহ জান্নাতের যে নেয়ামত ভোগ করাচ্ছিলেন, সেটা বাড়িয়ে দেন। তখন জান্নাতি বলেন, ‘আল্লাহ, আমার তো অনেক আগে মৃত্যু হয়েছে। আমার মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ তো বন্ধ হয়ে গেছে। এখন আমার মর্যাদা বৃদ্ধি করছেন কেন?’ তখন আল্লাহ বলেন, ‘তোমার যে নেক সন্তান দুনিয়াতে রেখে আসছ, সে সন্তান তোমার জন্য দোয়া করেছে, এই দোয়ার বিনিময়ে তোমার মর্যাদা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’