কিস্তিতে বেশি দামে পণ্য কেনাবেচা কি জায়েজ

কয়েক ধাপে মূল্য পরিশোধের শর্তে নগদে পণ্য গ্রহণ হলো কিস্তিতে ক্রয়-বিক্রয়। বর্তমানে ফ্রিজ, গাড়ি, বাড়ি, জমি ইত্যাদিসহ নানা ধরনের পণ্য কিস্তিতে কেনাবেচা হয়। এতে ক্রেতা সহজে প্রয়োজনীয় পণ্যটি কিনে নিতে পারেন। আবার এই সুবিধার বিনিময়ে ক্রেতার সম্মতিসাপেক্ষে বিক্রেতাও অতিরিক্ত কিছু লাভ করতে পারেন। অনেকে জানতে চান, কিস্তিতে কেনাবেচা জায়েজ কি না।
ইসলাম বিশেষজ্ঞরা বলেন, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বাকিতে পণ্য কেনাবেচা করা ইসলামে বৈধ। এটি সুদ নয়। তবে কিস্তিতে টাকার বিনিময়ে টাকা নিয়ে পরে বেশি দেওয়া জায়েজ নেই। এটা হারাম। কারণ, এটি তখন সুদ হয়ে যায়।
আলেমরা বলেন, শর্তসাপেক্ষে কিস্তিতে কেনাবেচা জায়েজ আছে এবং কিস্তির মূল্য নগদ মূল্যের চেয়ে বেশি নেওয়া জায়েজ। তবে কিস্তিতে বিক্রির ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত মানতে হবে। যথা—ক. পণ্যের মূল্য ও আদায়ের তারিখ সুনির্দিষ্ট হতে হবে। খ. চুক্তির সময় পণ্যের মূল্য চূড়ান্ত হওয়ার পর কিস্তি আদায়ে বিলম্ব বা পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া ইত্যাদির কারণে পুনরায় মূল্য বাড়ানো যাবে না। গ. কিস্তি আদায়ের জন্য পণ্য আটকে রাখা যাবে না, বরং চুক্তির পর পরই পণ্য ক্রেতাকে বুঝিয়ে দিতে হবে।
ঢাকা থেকে প্রকাশিত আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আল-কাউসারের এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ‘নগদ মূল্যের তুলনায় কিস্তিতে বিক্রির ক্ষেত্রে কিছুটা বেশি দাম নেওয়া জায়েজ আছে। তবে এক্ষেত্রে বাকির মেয়াদ এবং পণ্যের মূল্য চুক্তির সময়ই নির্ধারণ করে নিতে হবে। আর পণ্য নগদে হস্তান্তর করতে হবে। উভয়টি বাকি রাখা যাবে না। এ ছাড়া কিস্তি আদায়ে বিলম্ব হলে চুক্তির সময় যে মূল্য ধার্য করা হয়েছিল এর চেয়ে দাম বাড়িয়ে নেওয়া জায়েজ হবে না।’ (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস: ২০৮৩৬; রদ্দুল মুহতারম খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ১৪২)
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘কিস্তিতে বেশি দামে পণ্য কেনা জায়েজ। এটা হারাম নয়। সাহাবিদের যুগেও কিস্তিতে কেনাবেচার প্রচলন ছিল। সেখানে কমবেশি করা যাবে না—এমন কোনো শর্ত মহানবী (সা.) দেননি।’



