logo

হজের ফরজ ও ওয়াজিব কী কী

হজের ফরজ ও ওয়াজিব কী কী

ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত। এর মধ্যে হজ অন্যতম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘ইসলামের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পাঁচটি বিষয়ের ওপর। যথা—এক. আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাসক নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। দুই. যথাযথভাবে নামাজ আদায় করা। তিন. জাকাত প্রদান। চার. হজ এবং পাঁচ. রমজান মাসের রোজা পালন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮)

হজ মুসলমানদের বিশ্ব সম্মেলন। হজকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর সামর্থ্যবান মুসলমানরা মক্কায় জড়ো হন। নির্দিষ্ট দিনে নির্ধারিত নিয়মে সবাই একসঙ্গে হজের আমল করেন। আল্লাহ বলেন, ‘মানুষের মধ্যে হজের ঘোষণা দিন। তারা আপনার কাছে আসবে হেঁটে ও সর্বপ্রকার ক্ষীণকায় উটসমূহের পিঠে (আরোহণ করে), তারা আসবে দূর-দূরান্তের পথ অতিক্রম করে।’ (সুরা হজ, আয়াত: ২৭)

আর্থিক ও দৈহিকভাবে সামর্থ্যবান নারী-পুরুষের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক সামর্থ্যবান মানুষের ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাবাঘরের হজ করা ফরজ।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯৭)

নিয়তসহ ইহরাম পরে নির্দিষ্ট দিনে আরাফার ময়দানে অবস্থান ও কাবা শরিফ তওয়াফ করা হলো হজ। (ফতোয়ায়ে শামি, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৪৫৪)

হজের নির্দিষ্ট সময় হলো আশহুরুল হুরুম বা শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজের প্রথম ১০ দিন; বিশেষত জিলহজের ৮ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত পাঁচ দিন। এই পাঁচ দিনই মূলত হজ পালন করা হয়। হজের নির্ধারিত স্থান পবিত্র কাবা, সাফা-মারওয়া, মিনা, আরাফা ও মুজদালিফা। দূরের হাজিদের জন্য মদিনা মুনাওয়ারায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা জিয়ারত করা ওয়াজিব।

হজের ফরজ 
হজের ফরজ তিনটি। যথা–
১. ইহরাম বাঁধা। (সুনানে কুবরা, হাদিস: ৯১৯০)
২. জিলহজ মাসের ৯ তারিখে সূর্য ঢলে যাওয়ার পর থেকে পরবর্তী রাতের সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার আগে যে কোনো সময় আরাফার ময়দানে অবস্থান করা। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৮১৪) 
৩. তাওয়াফে জিয়ারত। ১০ জিলহজ থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্তের আগেই এ তাওয়াফ সম্পন্ন করা।

 

হজের ওয়াজিব 
হজের ওয়াজিব ছয়টি। যথা–

  • মুজদালিফায় অবস্থান করা। ১০ জিলহজ সুবেহ সাদিকের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত সামান্য সময় মুজদালিফায় অবস্থান করা। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৮১৫) 
  • সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করা বা দৌড়ানো। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২১৩৭) 
  • জামরাতে পাথর মারা। ১০, ১১ ও ১২ জিলহজ জামরায় শয়তানকে পাথরা মারা। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২২৮৬)
  • তামাত্তু ও কিরান হজকারীদের জন্য কোরবানি করা। 
  • মাথার চুল মুণ্ডন করা বা চুল কাটা। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৬১৩)
  • বিদায়ি তাওয়াফ করা। 

এ ছাড়া মক্কাবাসী ছাড়া অন্যদের বিদায়ি তাওয়াফ করাও ওয়াজিব। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৩৫০)