logo

হজের তালবিয়ার অর্থ ও উচ্চারণ 

হজের তালবিয়ার অর্থ ও উচ্চারণ 

হজ-ওমরাহর অন্যতম আমল তালবিয়া। তালবিয়াকে বলা হয় হাজিদের স্লোগান। এটি হজ ও ওমরাহর বিশেষ আহ্বান—যা ইহরাম বাঁধার পর মক্কায় পৌঁছানোর আগে অথবা হজের বিভিন্ন কার্যক্রম চলাকালে মুসলমানরা উচ্চারণ করেন। এর মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা, আনুগত্য ও দাসত্ববোধকে প্রকাশ করে। এটি একান্ত আত্মসমর্পণের প্রকাশ এবং আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়ার প্রতীক।  

ইহরাম পরিধান করে প্রথমবার তালবিয়া পড়া হজ-ওমরাহর শর্ত। এরপর পড়লে সেটি সুন্নত হবে। হজের মৌসুমে তালবিয়া ধ্বনিতে মুখর থাকে আরাফার ময়দান, মিনা ও মুজদালিফা। 

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.)-এর তালবিয়া হলো—

 لَبَّيْكَ اَللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لا شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لا شَرِيْكَ لَكَ

উচ্চারণ: লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা, ওয়ান নিমাতা, লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।

অর্থ: আমি আপনার ডাকে সাড়া দিয়েছি, হে আল্লাহ, আমি আপনার ডাকে সাড়া দিয়েছি। আমি আপনার ডাকে সাড়া দিয়েছি, আপনার কোনো অংশীদার নেই, আমি আপনার ডাকে সাড়া দিয়েছি। নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা, নেয়ামত এবং সাম্রাজ্য আপনারই। আপনার কোনো অংশীদার নেই। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৫৪৯)

পুরুষ ও নারীদের তালবিয়া পাঠের নিয়ম
পুরুষ উচ্চস্বরে এবং নারীরা নিম্নস্বরে তালবিয়া পাঠ করবেন। (আদ-দুররুল মুখতার, পৃষ্ঠা: ৪৮৪)।

তালবিয়া পুরোটা পাঠ করতে হবে। কিছু অংশ ছেড়ে দেওয়া মাকরুহ। 

হজ পালনকারী কতক্ষণ তালবিয়া পড়বে 
ইহরাম বাঁধা থেকে শুরু করে ১০ জিলহজ কোরবানির দিন ‘জামারাতুল আকাবায়’ কঙ্কর নিক্ষেপের আগ পর্যন্ত হজ পালনকারী তালবিয়া পাঠ করবে। ফজল ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) জামরাতুল আকাবায় (বড় জামরা) কঙ্কর নিক্ষেপ না করা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৫৪৪) 

 

জামরাতুল আকাবার কাছে পৌঁছে প্রথম পাথর নিক্ষেপের আগমুহূর্তে হাজিদেরকে তালবিয়া পাঠ বন্ধ করতে হবে। এখান থেকে হজের শেষ পর্যন্ত আর তালবিয়া পড়া জায়েজ নেই। 

তালবিয়ার ফজিলত 
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুমিন যখন ইহরাম অবস্থায় দিন কাটাবে, তখন সূর্য তার সব গুনাহ নিয়ে অস্ত যাবে। কোনো মুসলিম যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হজের তালবিয়া পাঠ করবে, তখন তার ডানে-বামে পৃথিবীর শেষ প্রান্ত পর্যন্ত সব কিছু তার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ৮১০) 

রাসুলুল্লাহ বলেছেন, ‘যে কেউ তালবিয়া পাঠ করবে, তাকে সুসংবাদ দেওয়া হবে। যে কেউ তাকবির বলবে তাকে সুসংবাদ দেওয়া হবে। জানতে চাওয়া হলো, হে আল্লাহর রাসুল, জান্নাতের সুসংবাদ। মহানবী বললেন, হ্যাঁ।’ (আল-মুজামুল আওসাত, তাবরানি, ৭৭৭৫)