Advertisement

রমজানের শেষ দশকে যেসব আমল করবেন

এশিয়া পোস্ট নিউজ
রমজানের শেষ দশকে যেসব আমল করবেন

রমজানের দিনগুলো বয়ে যাচ্ছে। রহমত ও মাগফিরাতের দিনগুলো শেষ হয়ে গেছে। আর বাকি আছে অল্প কিছু দিন। রমজানের প্রতিটি দিনই মুমিনজীবনের সেরা দিন। ইবাদত-আমলের বসন্তদিন। রমজানের শেষ দশকের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক। শেষ দশক ঘিরে আছে ইতেকাফ, লাইলাতুল কদর ও সদকাতুল ফিতরের মতো মূল্যবান ইবাদত। রমজানের পবিত্র আলো নিজের জীবনে ধারণ ও নিজেকে পরিশুদ্ধ করে গড়ে তুলতে শেষ দশকে বিশেষ কিছু আমলে জোড় দেওয়া প্রয়োজন। 

Advertisement

ইবাদতে মশগুল রমজানে প্রতিটি আমলের বিনিময়ে ৭০ গুণ সওয়াব বেশি পাওয়া যায়। এত বিপুল পরিমাণ সওয়াব অন্য মাসে পাওয়া যায় না। রমজান ফুরিয়ে গেলে এই সুযোগ আর পাওয়া যাবে না। সুতরাং সময় থাকতে সময়ের মর্যাদা দিতে হবে। সময় কাজে লাগাতে হবে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) রমজানে মাসে বেশি বেশি আমল করতেন। বিশেষ করে রমজানের শেষ দশকে এত বেশি আমল করতেন যে, অন্য কোনো সময়ে এত আমল করতেন না। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকে এত বেশি ইবাদত করতেন, যা বছরের অন্য সময়ে করতেন না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৭৫)

লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান মুমিন জীবনের শ্রেষ্ঠ রাত কদরের রাত। এই রাতে আল্লাহ তাআলা প্রথম আসমানে নেমে আসেন। বান্দাকে আহ্বান করেন। কাছে ডাকেন। আল্লাহর ডাকা সাড়া দিলে বান্দার গুনাহ মাফ হয়। বান্দার জীবনে রহমত, বরকত ও মাগফিরাত আসে। বান্দার ইবাদতের জোয়ারে ভেসে যায় গুনাহ। সুতরাং এই রাতকে অনুসন্ধান করতে হবে। অন্তর দিয়ে খুঁজতে হবে। আল্লাহর কাছ থেকে ক্ষমা করিয়ে নিতে হবে জীবনের কলুষতা ও গুনাহের বোঝা। মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কদর রাতের সন্ধান পেতে চায়, সে যেন রমজানের শেষ দশকে খুঁজে নেয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১১৫৮)

আরেক হাদিসে আছে, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদরের তালাশ করো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২০১৭)

রাত জেগে ইবাদত  রমজানের শেষ দশকে মহানবী (সা.) ইবাদতে বেশি মনোযোগী হতেন। রাত জেগে আমল করতেন। নামাজ পড়তেন। কোরআন তেলাওয়াত করতেন। জিকির করতেন। পরিবারের সদস্যদের ইবাদতে উদ্বুদ্ধ করতেন। রাতে জাগিয়ে তুলতেন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘রমজানের শেষ দশকে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইবাদতের জোর প্রস্তুতি নিতেন। নিজে রাত জাগতেন। পরিবার-পরিজনকে জাগিয়ে তুলতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২০২৪)

আলি (রা.) বলেন, ‘রমজানের শেষ ১০ দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.) (ইবাদত-বন্দেগি করার জন্য) তাঁর পরিবারের সদস্যদের (রাতে) জাগিয়ে দিতেন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৭৯৫)

আল্লাহকে পেতে ইতেকাফ  আল্লাহকে যে পেতে চায়, তার জন্য ইতেকাফ আবশ্যক। ইতেকাফে ব্যক্তির দুনিয়াকেন্দ্রীক ঝামেলার অবসান হয়। আমল-ইবাদতে বাধা থাকে না। আল্লাহর পছন্দের ঘরে তাঁকে খোঁজে পেতে সুবিধে হয়। আল্লাহও সাড়া দেন বান্দার একান্ত  নির্জনতায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফ করতেন। প্রভুর ইবাদতে একান্ত সময় যাপন করতেন। তিনি আমৃত্যু শেষ দশকে ইতেকাফ করে গেছেন। আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনায় এসেছে, নবী (সা.) ইন্তেকাল অবধি প্রতি বছরই ইতিকাফ থেকেছেন। তাঁর ইন্তেকালের পর তাঁর স্ত্রীরাও ইতেকাফ পালন করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২০২৬)

 

সদকাতুল ফিতর আদায় রমজানের শেষ দশকের গুরুত্বপূর্ণ আমল সদকাতুল ফিতর। সদকাতুল ফিতরের মাধ্যমে রোজার বিচ্যুতির ক্ষমা হয়। গরিব মানুষের খাবারের সুন্দর ব্যবস্থা হয়। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ সদকাতুল ফিতর নির্ধারণ করেছেন, যাতে করে এটা রোজাদারের রোজার বিচ্যুতি তথা অনর্থক কথা-কাজ ও অশালীন আচরণের ক্ষতিপূরণ হয় এবং অসহায় মানুষের খাবারের সুন্দর ব্যবস্থা হয়।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৬০৯)

বেশি বেশি সদকা রমজানের পরই মুসলমানদের জন্য আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে ঈদ। এক মাস লাগাতর রোজার পর বান্দার মন আনন্দে মেতে ওঠে এই দিনে। ধনীদের উচিত, ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো। তাদের সহযোগিতা করা। ইবনে আব্বাস বলেন, ‘নবী (সা.) ধন-সম্পদ ব্যয় করার ব্যাপারে সকলের চেয়ে দানশীল ছিলেন। রমজানে জিবরাইল (আ.) যখন তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করতেন, তখন তিনি আরও অধিক দান করতেন। রমজান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি রাতেই জিবরাইল তাঁর সঙ্গে একবার সাক্ষাত করতেন। আর নবী (সা.) তাঁকে কোরআন শোনাতেন। জিবরাইল যখন তার সঙ্গে সাক্ষাত করতেন, তখন তিনি রহমতসহ প্রেরিত বায়ুর চেয়ে অধিক ধন-সম্পদ দান করতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৯০২)

বিষয় :