রমজানে যে আমল করলে হজের সওয়াব পাওয়া যায়

রমজান মাসের অন্যতম নফল ইবাদত ওমরাহ করা। ওমরাহ হলো নির্ধারিত স্থানে নির্দিষ্ট কয়েকটি কাজ করা। ওমরাহর নির্দিষ্ট কাজ হলো—ইহরাম বাঁধা, কাবা ঘর তাওয়াফ করা, সাফা-মারওয়া সায়ি করা, মাথা মুণ্ডন বা চুল ছাঁটাই করা। উমরার নির্ধারিত স্থান হলো—কাবা ঘর, সাফা-মারওয়া ইত্যাদি। মক্কার বাইরে থেকে আসা লোকদের জন্য হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা (কবর) জিয়ারত করা সুন্নত।
ওমরাহ করার বিশেষ কোনো সময় নির্দিষ্ট নেই। তবে হজের নির্ধারিত বিশেষ সময়ে (৮ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত পাঁচ দিন) ওমরাহ পালন করা যাবে না। এই পাঁচ দিন ছাড়া বছরের যে কোনো দিন যে কোনো সময় ওমরাহ পালন করা যায়। হজের সফরেও ওমরাহ করা যায়। একই সফরে একাধিক ওমরাহ করতেও বাধা নেই।
রমজানে ওমরাহ করলে একটি হজ আদায়ের সমান সওয়াব পাওয়া যায়। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, নবী (সা.) এক আনসারি নারীকে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে হজ করতে তোমার বাধা কিসের?’ ওই নারী বলল, ‘আমাদের একটি পানি বহনকারী উট ছিল কিন্তু এতে অমুকের বাবা ও তার ছেলে (নারীর স্বামী ও ছেলে) আরোহণ করে চলে গেছেন। আমাদের জন্য রেখে গেছেন পানি বহনকারী আরেকটি উট, যা দিয়ে আমরা পানি বহন করি।’ নবী (সা.) বললেন, ‘আচ্ছা, রমজান এলে ওমরাহ করে নিয়ো। কেননা রমজানের একটি ওমরাহ একটি হজের সমতুল্য।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৭৮২)
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘রমজান মাসে ওমরাহ করা আমার কাছে হজ আদায় করার সমতুল্য।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৮৬৩)
রমজান মাসের আমলের সওয়াব অন্যান্য মাসের তুলনায় ৭০ গুণ বা তার চেয়ে বেশি। মক্কায় মসজিদুল হারামে (কাবা) এক রাকাত নামাজ পড়লে এক লাখ রাকাতের চেয়ে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়।
ওমরাহ করা গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল। ওমরাহয়ে জীবনের গুনাহ মাফ হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘একটি ওমরাহ পরবর্তী ওমরাহ পর্যন্ত মাঝখানের গুনাহগুলোর জন্য কাফফারাস্বরূপ।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৭৭৩)
ওমরাহ আদায়ে মহান আল্লাহ বান্দার রিজিকে বরকত দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা ধারাবাহিক হজ ও ওমরাহ আদায় করতে থাক। এ দুটি আমল দারিদ্র্য ও গুনাহ দূর করে দেয়। যেমন হাঁপরের আগুনে লোহা ও স্বর্ণ-রুপার ময়লা দূর হয়।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৮১০)