logo

ওমরাহ কী, ওমরাহ করার ফজিলত 

ওমরাহ কী, ওমরাহ করার ফজিলত 

ওমরাহ আরবি শব্দ, অর্থ ভ্রমণ ও ইচ্ছা। ইসলামি পরিভাষায় ওমরাহ হলো নিয়ত করে ইহরামসহ কাবা শরিফের চারপাশ সাতবার তাওয়াফ, সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝে সাতবার সাই করা এবং মাথা মুণ্ডানো। সামর্থ্য থাকলে জীবনে একবার ওমরাহ করা সুন্নত। 

যে কোনো সময় ওমরাহ করা যায়। শুধু হজের মৌসুমে বা জিলহজ মাসের ৯ থেকে ১৩ তারিখ পর্যন্ত পাঁচ দিন ওমরাহ করা মাকরুহ। 

ওমরাহর ফজিলত
ওমরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ আমল। আল্লাহ তাআলা মানুষকে ওমরাহ করার নির্দেশ দিয়েছেন। হাদিসে ওমরাহর অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। 

গুনাহ মাফ হয়
ওমরাহ করলে মানুষের সগিরা বা ছোট ছোট গুনাহ মাফ হয়। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এক ওমরাহ থেকে পরবর্তী ওমরাহ পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ (সগিরা) মাফ হয়ে যায়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৬৮৩)

ওমরাহ করলে রিজিক বাড়ে
ওমরাহ করার মাধ্যমে মানুষের গুনাহ মাফ হয়। ওমরাহকারীর অভাব দূর হয় ও রিজিক বাড়ে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা একাধারে হজ ও ওমরাহ করতে থাকো। কেননা, হজ-ওমরাহ দারিদ্র্য বিমোচন ও গুনাহ দূর করে দেয় ঠিক সেভাবে, যেভাবে হাঁপরের আগুন লোহা, সোনা ও রুপা থেকে ময়লা দূর করে দেয়।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৮১০)

দোয়া কবুল হয়
আল্লাহ তাআলা ওমরাহ পালনকারীর দোয়া কবুল করেন। তার মনের আশা পূরণ করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হজ ও ওমরাহ আদায়কারীরা আল্লাহর প্রতিনিধি। তারা আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তিনি কবুল করেন। কিছু চাইলে তা তাদের দান করেন।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৮৯৩)

ওমরাহর সফরে মারা গেলে ওমরাহর সমান সওয়াব  
ওমরাহ করতে গিয়ে ব্যক্তি মারা গেলেও কেয়ামত পর্যন্ত ওমরাহ করার সমান সওয়াব পাবেন। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে হজের উদ্দেশে বের হয়ে মারা গেছে, তার জন্য কেয়ামত পর্যন্ত হজের সওয়াব লেখা হবে। আর যে ওমরাহর উদ্দেশে বের হয়ে মারা যাবে, তার জন্য কেয়ামত পর্যন্ত ওমরাহর সওয়াব লেখা হবে।’ (সহিহুত-তারগিব ওয়াত-তারহিব, হাদিস: ১১১৪)

রমজানের ওমরাহ হজের সমতুল্য
বিশেষ করে রমজান মাসে ওমরাহ করা অনেক সওয়াবের কাজ। রমজানে ওমরাহকে হজের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। হজরত বারা ইবনে আজিব (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রমজানে একটি ওমরাহ আদায় (সওয়ারেব বিবেচনায়) হজের সমতুল্য।’ আরেক বর্ণনায় আছে, ‘রমজানে ওমরাহ আদায় করা আমার সঙ্গে হজ করার সমতুল্য।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৯৯০) 

 

ওমরাহ ওয়াজিব নাকি সুন্নত 
ওমরাহ ওয়াজিব না সুন্নত—এ নিয়ে ইসলামি গবেষকদের মধ্যে মতভেদ আছে। ইমাম আহমদ ও ইমাম শাফির (রহ.) মতে, ওমরাহ পালন করা ওয়াজিব। ইমাম মালেক ও আবু হানিফার (রহ.) মতে, ওমরাহ সুন্নত।