জুমার জামাতে অন্যদের ডিঙিয়ে সামনে যাওয়া কি জায়েজ

জুমার দিন আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম দিন। এ দিনে আদমকে (আ.) সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিনই তাঁকে জান্নাতে দেওয়া হয় এবং এ দিনই তাঁকে জান্নাত থেকে পৃথিবীতে নামানো হয়। এ দিনই কেয়ামত হবে।
সপ্তাহের সেরা ও মর্যাদাপূর্ণ দিন জুমার দিন। আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম দিন। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিন দিবসসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তা আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১০৮৪)
এ দিনের অন্যতম আমল জুমার নামাজ পড়া। জুমার নামাজের গুরুত্ব বর্ণনা করে আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা, জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য ডাকা হয়, তখন আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও। কেনাবেচা ছেড়ে দাও, এটাই তোমাদের জন্য অতি উত্তম, যদি তোমরা জানতে!’ (সুরা জুমা, আয়াত: ৯)
জুমার নামাজ পড়তে সবার আগে মসজিদে আসার অনেক ফজিলত রয়েছে। যারা আগেভাগে মসজিদে আসেন, তারা পাবেন গ্রহণযোগ্য কোরবানির সওয়াব। আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিন মসজিদের দরজায় ফেরেশতারা অবস্থান করেন। তারা ক্রমানুসারে আগে আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকেন। সবার আগে আগমনকারী ওই ব্যক্তির মতো, যে একটি মোটাতাজা উট কোরবানি করে। এরপর যে আসে সে ওই ব্যক্তির মতো, যে একটি গাভি কোরবানি করে। এরপর আগমনকারী ব্যক্তি ভেড়া কোরবানিকারীর মতো। পরে আগমনকারী মুরগি দানকারীর মতো। এরপর যে আসে সে একটি ডিম দানকারীর মতো। ইমাম বের হলে ফেরেশতারা তাদের খাতা বন্ধ করে দিয়ে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯২৯)
জুমার দিন যে যত আগে মসজিদে আসবে, সে ওই পর্যায়ের কোরবানির সওয়াব পাবে। তাই আজানের সঙ্গে সঙ্গে জুমার নামাজের প্রস্তুতি নিয়ে সবার আগে মসজিদে উপস্থিত হওয়া প্রয়োজন। নামাজের আগে মনোযোগ সহকারে ইমামের খুতবা শোনা ওয়াজিব।
জুমার দিন অনেককে দেখা যায় পরে এসে মানুষের ঘাড় টপকে সামনের কাতারে চলে যান, এতে কাতারে বসে থাকা মানুষ বিরক্ত হন। অনেকে কষ্ট পান। হজরত মুহাম্মদ (সা.) অন্যকে ডিঙিয়ে সামনে আসতে নিষেধ করেছেন। এক সাহাবি জুমার নামাজে পরে এসে অন্যদের ডিঙিয়ে সামনে আসতে চাইলে মহানবী (সা.) তাকে থামিয়ে দেন।
হাদিসে আছে, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার খুতবা দিচ্ছিলেন। এক লোক সবার ঘাড় ডিঙিয়ে ডিঙিয়ে সামনে আসছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘বসো, তুমি মানুষকে কষ্ট দিলে।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১১১৮)
কেউ যদি এমন কাজ করেন, তাহলে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কারণ, ইসলামে অন্যকে কষ্ট দেওয়া হারাম। গুনাহের কাজ। তাই এটি কোনোভাবেই করা উচিত নয়।



