logo

বদনজর থেকে বাঁচার দোয়া 

বদনজর থেকে বাঁচার দোয়া 

সব মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এক নয়। কেউ ভালো নজরে দেখে, কেউ বদনজর বা খারাপ দৃষ্টিতে তাকায়। ইসলামে বদনজর প্রমাণিত বা সত্য। কুদৃষ্টিই মূলত বদনজর। 

কারও দিকে বদনজরে তাকালে তা ফলে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। বদনজর শুধু মানুষের পক্ষ থেকে হয় এমন নয়, খারাপ জিন থেকেও হয়। তাই বদনজর থেকে বাঁচতে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে। তাঁর কাছে আশ্রয় চাইতে হবে। দোয়া পড়তে হবে। 

বদনজরের বাস্তবতা 
কোরআন ও হাদিসে বদনজরের বাস্তবতা এবং এর থেকে সুরক্ষা লাভের উপায় উল্লেখ করা হয়েছে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা বদনজরের প্রভাব থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করো। কেননা, নজরের প্রভাব সত্য।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩৫০৮) 

আল্লাহ বলেন, ‘কাফেররা যখন উপদেশবাণী শোনে, তখন তারা যেন তাদের দৃষ্টির মাধ্যমে তোমাকে আছড়ে ফেলবে। আর তারা বলে, এ তো এক পাগল।’ (সুরা কলম, আয়াত: ৫১)

বদনজর থেকে বাঁচার দোয়া 
রাসুলুল্লাহ (সা.) বদনজর থেকে বাঁচার জন্য বিভিন্ন দোয়া শিখিয়েছেন। এখানে কয়েকটি দোয়া উল্লেখ করা হলো—

রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর দুই নাতি হজরত হাসান ও হজরত হুসাইনকে (রা.) লক্ষ্য করে একটি দোয়া পড়তেন। দোয়া পড়ে তাদের দুজনকে ঝাড়ফুঁক করে দিতেন। দোয়াটি হলো—

أعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ

উচ্চারণ: আউজু বি কালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিং কুল্লি শাইতানিন, ওয়া হাম্মাতিন ওয়া মিং কুল্লি আইনিন লাম্মাতিন। 

অর্থ: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কল্যাণময় বাক্যবলির উসিলায় প্রতিটি শয়তান, প্রাণনাশী বিষাক্ত জীব ও অনিষ্টকারী বদনজর থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

হজরত আবু সাইদ (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার কোনো এক রোগে আক্রান্ত হলেন। তখন জিবরাইল (আ.) তাঁর কাছে এসে বললেন, হে মুহাম্মদ, আপনি কি অসুস্থতা বোধ করছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। জিবরাইল তখন এ দোয়াটি পড়লেন—

بِسْمِ الله أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللهُ يَشْفِيكَ بِسمِ اللهِ أُرقِيكَ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি আরকিকা মিন কুল্লি শাইয়িন ইউজিকা, মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আউ আইনিন হাসিদিন। আল্লাহু ইয়াশফিকা, বিসমিল্লাহি আরকিকা।

অর্থ: আল্লাহর নামে আপনাকে ফুঁ দিচ্ছি, যেসব জিনিস আপনাকে কষ্ট দেয়, যেসব প্রাণের অনিষ্ট কিংবা হিংসুকের বদনজর থেকে আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য দিন। আল্লাহর নামে আপনাকে ফুঁ দিচ্ছি। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৫১২)

 

একটি দোয়া সকাল-সন্ধ্যা পড়লে হঠ্যাৎ কোনো বিপদ ব্যক্তিকে আক্রান্ত করতে পারবে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে সন্ধ্যায় তিনবার বলবে, সকাল হওয়া পর্যন্ত তার ওপর হঠাৎ কোনো বিপদ আসবে না। যে তা সকালে তিনবার বলবে, সন্ধ্যা পর্যন্ত তার ওপর হঠাৎ কোনো বিপদ আসবে না।’ দোয়াটি হলো—
 بسمِ اللهِ الذي لا يَضرُّ مع اسمِه شيءٌ في الأرضِ ولا في السماءِ وهو السميعُ العليمُ

উচ্চারণ: বিসমিল্লা হিল্লাজি লা ইয়াদুররু মা আসমিহি শাইউন ফিল আরজি, ওয়া লা ফিস সামায়ি, ওয়া হুয়াস সামিউল আলিম। 

অর্থ: আল্লাহর নামে, যার নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো বস্তুই ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা ও মহাজ্ঞানী। 

বদনজর থেকে বাঁচতে নিয়মিত সুরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত, সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পড়া যেতে পারে।