Advertisement

ভাত খাওয়ার সময় কথা বললে কি গুনাহ হয়

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ভাত খাওয়ার সময় কথা বললে কি গুনাহ হয়
খাবার টেবিলে মুসলিম পরিবারের সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে আছে সব বিষয়ের সমাধান। নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানুষকে প্রয়োজনীয় সব বিষয়ে শিখিয়েছেন। আমল-ইবাদত থেকে শুরু করে কীভাবে কথা বলতে হয়, খেতে হয়, পথ চলতে হয়, ঘুমাতে হয়, প্রস্রাব-পায়খানা করতে হয়, তা-ও শিখিয়েছেন তিনি। এমনকি প্রস্রাব-পায়খানার সময় কীভাবে বসতে হয়, পরিষ্কার পদ্ধতি কী, কতটি ঢিলা ব্যবহার করতে হয়, তা-ও জানিয়েছেন সাহাবিদের।

Advertisement

ইসলামে খাদ্যগ্রহণকে ইবাদতের অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ইসলামে আছে খাবার গ্রহণের সুন্নত ও উত্তম পদ্ধতি। খাবারের ক্ষেত্রেও শিষ্টাচার ও বিধিনিষেধ শিক্ষা দিয়েছেন মহানবী (সা.)। বিধিনিষেধগুলোর প্রতি একটু খেয়াল রাখলেই খাবারও ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়, এতেও সওয়াব লাভ হয়।

মহানবী (সা.) খাবার গ্রহণের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলতেন। আল্লাহর নাম নিয়ে ডান হাতে খাবার খাওয়া শুরু করতেন। দস্তরখান বিছিয়ে খেতেন, প্লেটের একপাশ থেকে খেতেন। এ ছাড়াও তিনি খাবারের দোষ ধরতেন না, খাবার অপচয় করতেন না।

খাবার খাওয়া নিয়ে আমাদের সমাজে একটি কথা প্রচলিত আছে যে, ‘খাবার গ্রহণকালে কথা বলা যাবে না। কথা বললে গুনাহ হয়?’ প্রশ্ন হলো, কোরআন-হাদিসে এর কোনো ভিত্তি আছে?

হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও সাহাবিরা খাবার গ্রহণের সময় একবারে চুপ থাকতেন না, বরং মাঝেমধ্যে উপকারী কথা বলতেন। (ইমাম সাখাবি, আল-মাকাসিদ, পৃষ্ঠা: ৩২৫)। বিভিন্ন হাদিস দিয়ে প্রমাণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) খাওয়ার সময় কথা বলেছেন। তাই খাওয়ার সময় ভালো ও প্রয়োজনীয় কথা বলা মুস্তাহাব। অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা কিংবা হাসি-ঠাট্টা পরিহার করা উত্তম।

ইমাম নববি (রহ.) সহিহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থে লিখেছেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর খাবারের সময় কথা বলার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, এই সময় কথা বলা মুস্তাহাব।’

ইসলাম বিশেষজ্ঞরা বলেন, ভাত খাওয়ার সময় কথা বললে গুনাহ হয়, এটি বানোয়াট কথা। ভাত খাওয়ার সময় কথা বললে গুনাহ হয় না। ভাত খাওয়ার সময় কথা বলা নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কোরআন-হাদিসে কোনো বিধান নেই।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ ইউটিউবে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ভাত খাওয়ার সময় কথা বললে গুনাহ হয় না। ভাত খাওয়ার সময় নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কোরআন-হাদিসে কোনো বিধান নেই। আমাদের দেশে অনেকে বলেন, ‘ভাত খাওয়া আর নামাজ পড়া সমান। নামাজের মতো এটি গুরুত্বপূর্ণ। নামাজেও কথা বলা যায় না, ভাত খাওয়ার সময়ও কথা বলা যায় না।’ এটা মনগড়া কথা। কোরআন-হাদিসে এমন কোনো কথা বলা হয়নি।’

ভাত খাওয়ার সময় অতিরিক্ত কথা বলা উচিত নয় জানিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘এটা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আমাদের ভালো করে চিবিয়ে খেতে হয়। এটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। তাই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতি হয়, এমন কিছু করা উচিত নয়। সালাম দেওয়া বা অল্প কথা বলতে কোনো অসুবিধে নেই।’