logo

ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুন্নাহ পদ্ধতি

ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুন্নাহ পদ্ধতি
ছবি : সংগৃহীত

ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের নির্দিষ্ট কোনো বাধ্যতামূলক বাক্য বা পদ্ধতি নেই, তবে সাহাবিদের থেকে প্রমাণিত একটি সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি রয়েছে। তারা একে অপরকে ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম।’

অর্থ: ‘আল্লাহ তাআলা আমাদের এবং তোমাদের (নেক আমলসমূহ) কবুল করুন।’ এই বাক্যের মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানাতেন।

এটি ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর সবচেয়ে উত্তম ও বরকতময় পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত। কারণ এতে শুভেচ্ছার পাশাপাশি নেক দোয়াও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা ইসলামের মূল চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে আমরা শুধু ঈদ মোবারক বলার মাধ্যমেও পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করতে পারি।

শুভেচ্ছাবার্তায় আন্তরিকতা

ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে আমাদের উচিত আন্তরিকতা বজায় রাখা। অনেক সময় আমরা শুধু আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ঈদ মোবারক’ বলেই দায়িত্ব শেষ করে ফেলি। এটা উচিত নয়, এ ক্ষেত্রে ইসলামের শিক্ষা হলো—লৌকিকতাহীন আন্তরিক ভালোবাসা ও দোয়ার মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করা। অন্তর থেকে তাই অন্যের জন্য কল্যাণ কামনা করা জরুরি।

শালীনতা ও সৌজন্যতার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে ইসলাম। তাই ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর ক্ষেত্রেও হৃদ্যতা, ভদ্রতা ও নম্রতা বজায় রাখা উচিত। উচ্চস্বরে হইচই, অশালীন আচরণ বা অনর্থক কথাবার্তা থেকে বিরত থাকা জরুরি। হাসিমুখে সালাম দিয়ে সুন্দর ভাষায় শুভেচ্ছা জানানোই ইসলামের আদর্শ পন্থা।

সামাজিকমাধ্যমে শুভেচ্ছাবার্তা

আধুনিক বিশ্বে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের একটি জনপ্রিয় মাধ্যম হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জারের মাধ্যমে আমরা সহজেই অনেকের কাছে শুভেচ্ছাবার্তা পৌঁছে দিতে পারি। তবে এখানে খেয়াল রাখতে হবে যেন আমাদের শুভেচ্ছাবার্তায় ইসলামি চেতনা বজায় থাকে। অপ্রাসঙ্গিক বা অতিরঞ্জিত কথার পরিবর্তে সংক্ষিপ্ত, অর্থবহ ও দোয়ামূলক শুভেচ্ছাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।

এ ছাড়া আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও বন্ধুদের খোঁজ নেওয়া ঈদের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক। যারা দূরে থাকে, তাদের ফোনকল বা মেসেজের মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানানো যেতে পারে। এতে সম্পর্ক গভীর হওয়ার পাশাপাশি ইসলামের ভ্রাতৃত্ববোধ বাস্তবে প্রতিফলিত হবে। বিশেষ করে যারা অসুস্থ, দরিদ্র বা নিঃসঙ্গ—তাদের কাছে ঈদের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেওয়া অত্যধিক ফজিলতপূর্ণ কাজ।

ঈদের দিনে শুধু পরিচিতদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অচেনা মুসলমানদের সঙ্গেও শুভেচ্ছা বিনিময় করা একটি উত্তম কাজ। ঈদের নামাজ শেষে পাশের মুসল্লির সঙ্গে কোলাকুলি করে শুভেচ্ছা জানানো হতে পারে ইসলামি ভ্রাতৃত্বের চমৎকার নিদর্শন। এতে পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়।