logo

আজানের জবাব ও দোয়া 

আজানের জবাব ও দোয়া 

আজান আরবি শব্দ। অর্থ ডাকা, আহ্বান করা। আজান হলো, জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে মানুষকে মসজিদে একত্রিত করার জন্য আরবি নির্দিষ্ট বাক্যের মাধ্যমে ডাকা। 

আজান শোনে মৌখিকভাবে এর উত্তর দেওয়া সুন্নত। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমরা আজান শুনবে, তখন মুয়াজ্জিনের মতো তোমরাও বলবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬১১)

আজানের জবাব দেওয়ার নিয়ম
আজান শ্রবণকারীর জন্য হুবহু সে বাক্যে জবাব দেওয়া মুস্তাহাব। আজানদাতা যখন ‘হাইয়া আলাস সালাহ’ ও ‘হাইয়া আলাল ফালাহ’ বলবে, তখন শ্রোতা বলবে ‘লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।’ ‘আস সালাতু খাইরুম মিনান নাওম’ এর জবাবে বলবে ‘সাদাকতা ওয়া বারারতা’। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩৮৫) 

আজানের প্রতিটি বাক্যের উচ্চারণ ও এর জবাব নিচে দেওয়া হলো—

মুয়াজ্জিন: আল্লাহু আকবার ৪ বার।
জবাব: আল্লাহু আকবার ৪ বার।

মুয়াজ্জিন: আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ২ বার।
জবাব: আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ২ বার।

মুয়াজ্জিন: আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ ২ বার।
জবাব: আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ ২ বার।

মুয়াজ্জিন: হাইয়া আলাস সালাহ ২ বার।
জবাব: লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ ২ বার। 

মুয়াজ্জিন: হাইয়া আলাল ফালাহ ২ বার।
জবাব: লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ ২ বার। 

মুয়াজ্জিন: আল্লাহু আকবার ২ বার।
জবাব: আল্লাহু আকবার ২ বার।

মুয়াজ্জিন: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ১ বার। 
জবাব: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ১ বার। 

 

আজানের পর দোয়া 
আজান শেষে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর দরুদ পড়া মুস্তাহাব। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা যখন আজান শুনবে, তখন মুয়াজ্জিন যা বলে, তোমরা তাই বলে আজানের জবাব দেবে। এরপর আমার ওপর দরুদ পড়বে। কেননা যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পড়ে, আল্লাহ তার ওপর দশটি রহমত নাজিল করেন। এরপর তোমরা আমার জন্য ওয়াসিলার (মাধ্যম) দোয়া করবে। কেননা জান্নাতে এমন একটি জায়গা আছে, যা আল্লাহর এক বিশেষ বান্দা লাভ করবে। আমি আশাবাদী, আমি হব সেই বান্দা। অতএব যে আমার জন্য ওয়াসিলার দোয়া করবে, তার জন্য আমার শাফায়াত (সুপারিশ) আবশ্যক হবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩৮৪) 

আজানের জবাব শেষে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ শরিফ পড়ে নিচের দোয়াটি পড়তে হবে—

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রাব্বা হাজিহিদ দাওয়াতিত তাম্মাহ, ওয়াস সালাতিল কয়িমাতি, আতি মুহাম্মাদানিল ওয়া সিলাতা ওয়াল ফাজিলাতা, ওয়াবা আসহু মাকামাম মাহমুদা নিল্লাজি ওয়া আদতাহু। ইন্নাকা লা তুখলিফুল মিআদ।

অর্থ: হে আল্লাহ, এই পরিপূর্ণ আহ্বান ও প্রতিষ্ঠিত নামাজের প্রতিপালক তুমিই। হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে দান করো ওয়াসিলা (সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থান) ও সুমহান মর্যাদা। তাঁকে সেই প্রশংসিত স্থানে পৌঁছে দাও, যার প্রতিশ্রুতি তুমি তাঁকে দিয়ছ। নিশ্চয়ই তুমি প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করো না।