logo

যে সময় দোয়া করলে আল্লাহ ফিরিয়ে দেন না

যে সময় দোয়া করলে আল্লাহ ফিরিয়ে দেন না
দোয়া করছেন এক ব্যক্তি। ছবি: ফ্রিপিক

মানুষকে ঘিরে আছে আল্লাহর রহমত। আল্লাহর রহমত ছাড়া পৃথিবীতে মানুষের বেঁচে থাকার কোনো সুযোগ নেই। মানুষ আল্লাহর অবাধ্য এবং এত অপরাধে জড়িত হওয়ার পরও পৃথিবীতে বেঁচে আছে কেবল আল্লাহর দয়ায়। আল্লাহ চান, বান্দা অপরাধ করে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুক। তাঁকে বলুক, জীবনের কসুর। জীবনের সমস্ত বিষয়ে তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করুক।

আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের প্রতিপালক বলেছেন, আমাকে ডাকো; আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। নিশ্চয়ই অহংকারবশে যারা আমার ইবাদত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তারা লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’ (সুরা মুমিন, আয়াত: ৬০)

বান্দা শত অপরাধ করেও আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে তিনি ক্ষমা করে দেন। তিনি খুশি হয়ে যান। তাকে অবরাতি রহমতে আবৃত করেন। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, আল্লাহ বলেন, ‘(হে নবী,) আমার বান্দারা যখন আপনার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, তখন (আপনি তাদের বলুন,) আমি তো নিকটেই। কেউ যখন আমাকে ডাকে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই। সুতরাং তারাও আমার (আনুগত্যের) ডাকে সারা দিক এবং আমার প্রতি ইমান আনুক, যাতে তারা সঠিক পথে এসে যায়।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৬)

দোয়া কবুলের বিষয়ে আল্লাহর ওয়াদা রয়েছে। যে কোনো সময়, যে কোনো স্থান ও অবস্থায় দোয়া করা যায়। বান্দা যে অবস্থায় এবং যে সময়ই বিনয়ের সঙ্গে আল্লাহর দিকে মাথা নত করে এবং কায়মনোবাক্যে তাঁর কাছে নিজের আরজি পেশ করে, আল্লাহ তাআলা তা শোনেন এবং কবুল করেন।

যে কোনো সময় দোয়া করা যায়, তবে বিশেষ কিছু মুহূর্তে আল্লাহ বান্দার দোয়া বিশেষভাবে কবুল করেন। এই বিশেষ মুহূর্তগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম হলো ভোররাত বা রাতের শেষাংশ।

ভোররাত হলো ফজর নামাজের সময় শুরু হওয়ার আগের সময়। এ সময় তাহাজ্জুদ নামাজের বেশ গুরুত্ব আছে। পূর্ববর্তী নেককার ও উত্তম বান্দারা তাহাজ্জুদের বিষয়ে সচেতন থাকতেন। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা তাহাজ্জুদের নামাজে অভ্যাসী হও। কারণ, তা তোমাদের পূর্বতন নেক বান্দাদের অভ্যাস; তা তোমাদের প্রভুর নৈকট্যদানকারী ও পাপক্ষালনকারী এবং গুনাহ থেকে বিরতকারী আমল।’ (সহিহ তারগিব, ৬১৮)

আরেক হাদিসে আছে, ‘ফরজ নামাজের পর সর্বশ্রেষ্ঠ নামাজ হলো তাহাজ্জুদ নামাজ।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬৩)

হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে পৃথিবীর নিকটবর্তী আকাশে অবতরণ করে বলতে থাকনে, কে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কে আমার নিকট কিছু চাইবে? আমি তাকে দান করব। এবং কে আমার নিকট ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব।’ (বুখারি, মুসলিম, মেশকাত: ১২২৩)