logo

স্ত্রী কি স্বামীকে জাকাত দিতে পারবে, যা বলছেন ইসলামি স্কলার

স্ত্রী কি স্বামীকে জাকাত দিতে পারবে, যা বলছেন ইসলামি স্কলার

গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত জাকাত। আর্থিকভাবে সক্ষম মুসলমানদের ওপর জাকাত ফরজ। সম্পদশালী মুসলিম নারী-পুরুষের সম্পদ থেকে সম্পদের ২ দশমিক ৫ শতাংশ দেওয়াকে জাকাত বলে। ব্যক্তির ওপর জাকাত তখনই ফরজ হবে, যখন তার কাছে শরিয়ত নির্ধারিত সীমার বেশি সম্পদ এক বছর ধরে থাকবে এবং সম্পদ হবে বর্ধনশীল। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো, জাকাত দাও এবং রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ৪৩)

আল্লাহ তাআলা সুরা তওবার ৬০ নম্বর আয়াতে যাদের জাকাত দেওয়া যাবে, তাদের নাম উল্লেখ করেছেন। যেমন: এক. গরিব—যার নেসাব পরিমাণ সম্পদ নেই। দুই. মিসকিন—যার মালিকানায় কোনো সম্পদ নেই। তিন. ইসলামি সরকারের পক্ষ থেকে জাকাত সংগ্রহে নিয়োজিত ব্যক্তি। চার. ইসলামের দিকে চিত্ত আকর্ষণের জন্য জাকাত দেওয়া। পাঁচ. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি। ছয়. নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের বিনিময়ে স্বাধীন হওয়ার চুক্তিতে আবদ্ধ দাস-দাসী। সাত. আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী। আট. মুসাফির—সফর অবস্থায় অভাবগ্রস্ত মানুষ।

ইসলামি বিধান মতে, যেসব আত্মীয়দের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব দেওয়া ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব, তাদের জাকাত দেওয়া যাবে না। যেমন: বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি, ছেলেমেয়ে, পৌত্র, প্রোপৌত্র। স্বামী তার স্ত্রীকে জাকাত দিতে পারবে না। কারণ, স্ত্রীর ভরণপোষণের দায়িত্ব স্বামীর ওপর ওয়াজিব।

স্ত্রী যদি আর্থিকভাবে সচ্ছল হন আর স্বামী যদি দরিদ্র হয়, তাহলে স্ত্রী স্বামীকে জাকাত দিতে পারবে কি না, এ বিষয়ে ইসলামি ফিকাহবিদদের মাঝে মতভেদ রয়েছে।

আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আলকাউসারের ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি সংখ্যার এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ‘স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে জাকাত দেওয়া জায়েজ নয়। স্বামী অসচ্ছল হলেও তাকে জাকাত দেওয়া যাবে না।’ (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৮৯; রদ্দুল মুহতার, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২৫৮)

কোনো কোনো আলেমের মতে, স্বামী যদি দরিদ্র ও অভাবী হন, তাহলে সম্পদশালী স্ত্রী তার জাকাতের অর্থ স্বামীকে দিতে পারবেন। কারণ, স্বামীর ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা বা তার অভাব মোচন করা স্ত্রীর ওপর ওয়াজিব নয়। স্বামী বা আত্মীয়দের মধ্যে অভাবী কেউ থাকলে তাকেই জাকাত দেওয়া উত্তম। এতে আত্মীয়তার দাবি পূরণ ও জাকাত আদায়ের সওয়াব পাওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সাধারণ অভাবীদের সদকা করলে তা শুধু সদকা হয়, আত্মীয়দের দিলে সদকাও হয় এবং আত্মীয়তার হকও আদায় হয়।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ২৫৮২)

নরসিংদী জেলা তানযীম ফাতওয়া বোর্ডের সদস্য ও দারুল উলুম দত্তপাড়া মাদরাসার মুহাদ্দিস মুফতি নুরুল হুদা এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘দরিদ্র স্বামীকে আর্থিকভাবে সচ্ছল স্ত্রী জাকাত দিতে পারবে কি না, এ বিষয়ে আলেমদের দুটি মত রয়েছে। ইমাম শাফি ও মালেকসহ (রহ.) কিছুসংখ্যক আলেম বলেছেন, স্বামী দরিদ্র ও অভাবী হলে স্বাবলম্বী স্ত্রী তাকে জাকাত দিতে পারবেন। ইমাম আবু হানিফা, ইমাম সুফিয়ান সাউরি ও ইমাম ওয়াকি (রহ.)-সহ অনেক আলেম ও ফকিহদের মতে, স্বামীকে কোনো অবস্থাতেই জাকাত দেওয়া যাবে না। কেননা, স্ত্রী স্বামীকে জাকাত দিলে সেটা তার ঘরেই থেকে যায়। এ টাকায় স্বামী বাজার-সদাই বা প্রয়োজনীয় কাজ করার পর সেটা তো স্বামী-স্ত্রী দুজন মিলেই ভোগ করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বামীকে জাকাত দেওয়া মানে নিজেকেই জাকাত দেওয়া। জাকাতের অর্থ নিজে ভোগ করার সুযোগ নেই। স্বামীকে জাকাত দেওয়া হলে গরিবের অধিকার যেন কৌশলে নিজের কাছে রেখে দেওয়া হয়। এটি জায়েজ নেই। সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য এবং বিশুদ্ধ মত হলো, স্ত্রী কোনো অবস্থাতেই স্বামীকে জাকাত দিতে পারবে না।’

বাংলাদেশে যেহেতু হানাফি মাজহাবকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, তাই স্বামীকে কোনো অবস্থাতেই জাকাত দেওয়া যাবে না বলে জানান মুফতি নুরুল হুদা।