যে পুরুষকে উত্তম স্বামী বলেছেন মহানবী (সা.)

হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ১১ স্ত্রী ছিলেন। তারা মুসলিম জাতির মা। সম্মান-শ্রদ্ধার পাত্র। তাদের সঙ্গে তিনি সবচেয়ে বেশি অন্তরঙ্গ সময় কাটাতেন। প্রাণজুড়ানো গল্প করতেন। জীবনের নানারকম কথাবার্তা বলতেন। প্রাণবন্ত আড্ডায় আনন্দিত রাখতেন পুরো পরিবার। রসিকতা করতেও ভুলতেন না। প্রত্যেক স্ত্রীর কথাই মনোযোগ দিয়ে শুনতেন তিনি। তাদের কাজে সহযোগী করতেন নিজেকে। একসঙ্গে ঘুরতে বের হতেন। বাহনে চড়তেন। খেলাধুলা ও খুনসুটি করতেন। প্রণয়ের স্পর্শ দিতেন নিয়মিত।
অফিসে কিংবা কোথাও বেড়াতে গেলে আমরা ভালো পোশাক পরি। অফিসের বস কিংবা ঊর্ধ্বতন কর্তাকে খুশি করার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করি। তাদের সামনে স্মার্ট থাকার চেষ্টা করি। বিনয়াবত হই। ঊর্ধ্বতন কর্তা খুশি হলে তো আমরা মহাখুশি। মনে হয়, এবার সব সফলতা আমার ভাগেই। সেই আমাদের অনেকে বাসায় ফিরে অন্যরকম হয়ে যাই। অফিসের গদগদ ভাব মুহূর্তে উধাও হয়ে যায় আমার অভিধান থেকে। বাসায় ফিরে স্ত্রীর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করি না। খিটখিটে মেজাজ নিয়ে থাকি। এমন গাম্ভীর্য ভাব দেখাই, যেন রাজ্য জয় করে এসেছি। তাই স্ত্রীকে পাত্তা দেওয়া কিংবা তার সঙ্গে ভালোভাবে কথা বলার ফুরসৎ নেই।
আপনি অফিস থেকে ফিরেই মোবাইল নিয়ে বসে গেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় ব্যয় করছে বা গেমস খেলছেন। স্ত্রী ডাকছে, সেদিকে খেয়াল নেই। স্ত্রী এসে কিছু বলার আগেই আপনি বলেতে শুরু করেন, ‘সারা দিন অফিসেও মোবাইল চালাতে পারি না, নিজেকে সময় দিতে পারি না, এখন বাসায় ফিরেও শান্তি নেই।’ আপনি অবশ্যই নিজেকে সময় দেবেন, প্রয়োজনে মোবাইল স্ক্রলিং করবেন কিন্তু সেটা পরিমাণ মতো এবং স্ত্রীকে যথেষ্ট সময় দিয়ে। তার মন রক্ষা করে।
আপনি অফিসে সেরা কর্মী, বন্ধুদের কাছেও সেরা। মোটকথা আপনি সব জায়গায় ভালো, কিন্তু ঘরে ফিরেই আপনি ভিন্ন রকম হয়ে যান। তাহলে আপনি সেরা মানুষটা নন। বাইরের চেহারাটা হচ্ছে আপনার নকল চেহারা আর স্ত্রীর কাছেরটাই আসল। বাইরের লোকদের মানতে হচ্ছে বিধায় মানছেন আর ভেতরে অনাধিকার চর্চা করছেন। তাকে ঠকাচ্ছেন। সেরা ওই পুরুষ, যে বাইরেও ভালো, স্ত্রীর কাছেও ভালো। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম। আর স্ত্রীর কাছে উত্তম হওয়ার ক্ষেত্রে আমিই তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৮৯৫)
রাসুলুল্লাহ (সা.) স্ত্রীদের নিয়ে ঘুরতে যেতেন। দাওয়াত খেতে যেতেন। তাঁকে কেউ দাওয়াত দিতে এলে কখনো কখনো স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি চাইতেন। অনুমতি না মেলা পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন। আনাস (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.)-এর এক ফরাসি প্রতিবেশী ছিল। ভালো স্যুপ রান্না করত সে। একদিন স্যুপ রান্না করে সে নবীজিকে দাওয়াত দিতে এলে তিনি বলেন, আয়েশাও? সে জবাব দিল, না। তিনি আবারও বলেন, আয়েশাও? সে জবাব দিল, না। তিনি বলেন, তবে আমিও না। তৃতীবার দাওয়াত দিলে তিনি একই কথা বললেন। এবার লোকটি বলল, হ্যাঁ। এরপর তারা দুজন হুড়মুড় করে উঠলেন। পরস্পরকে অনুসরণ করে উপস্থিত হলেন সে ফরাসির বাড়ি।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২০৩৭)
জগতশ্রেষ্ঠ মানুষ মুহাম্মদ (সা.) পারিবারিক কাজে স্ত্রীদের সহযোগিতা করতেন। মদিনা পরিচালানা, সাহাবিদের দ্বীন শেখানো, আমল-ইবাদত ইত্যাদি কত ব্যস্ততাই ছিল তাঁর। তবুও স্ত্রীদের ঘরের কাজে সহযোগিতা করতেন। আসওয়াদ (রা.) বলেন, ‘আমি আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (সা.) ঘরে কী কাজ করতেন? জবাবে বলেন, তিনি পারিবারিক কাজ-কর্মে ব্যস্ত থাকতেন। যখন নামাজের সময় হতো, উঠে নামাজে চলে যেতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০৩৯)
