শিং ভাঙা পশু কি কোরবানি করা যাবে

কোরবানি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। জিলহজ মাসের ১০, ১১ বা ১২ তারিখে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে পশু জবাইয়ের মাধ্যমে ইবাদতটি পালন করতে হয়। কোরবানির পশু নির্বাচনের ক্ষেত্রে শরিয়ত কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছে। এতে পশুর সুস্থতা ও ত্রুটিমুক্ত হওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। হজরত আলি (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা কোরবানির পশুর চোখ ও কান ভালোভাবে পরীক্ষা করি এবং এমন পশু কোরবানি না করি যার কানের সামনের অংশ কাটা, পেছনের অংশ কাটা, কান চিরে গেছে অথবা কানে ছিদ্র রয়েছে।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস: ১৪৯৮)
গ্রামাঞ্চলে বা পশুর হাটে প্রায়ই দেখা যায়, কোনো পশুর শিং আংশিক ভাঙা, কোনো পশুর শিং জন্মগতভাবেই ছোট বা নেই। তখন এ ধরনের পশু কোরবানি করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের মনে দ্বিধা সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের নির্দেশনা বেশ স্পষ্ট। রাসুলুল্লাহ (সা.) কোরবানির পশুর ত্রুটি সম্পর্কে বলেছেন, ‘চার ধরনের পশু কোরবানির জন্য যথেষ্ট নয়, স্পষ্ট কানা পশু, সুস্পষ্ট রোগাক্রান্ত পশু, খোঁড়া পশু এবং এমন দুর্বল পশু—যার হাড়ের ভেতর মজ্জাও অবশিষ্ট নেই।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৮০২, জামে তিরমিজি, হাদিস: ১৪৯৭)
হাদিসে শিং ভাঙা পশুর কোরবানিকে সরাসরি নিষিদ্ধ করা হয়নি। তবে ইসলামিক স্কলাররা বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তাদের মতে, শিং ভাঙার ধরন অনুযায়ী বিধান হবে ভিন্ন ভিন্ন।
যদি পশুর শিঙের শুধু বাহ্যিক অংশ ভেঙে যায় এবং গোড়া অক্ষত থাকে, তাহলে সে পশু দিয়ে কোরবানি করা বৈধ। কারণ এতে পশুর মাংস, স্বাস্থ্য বা স্বাভাবিক অবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। একইভাবে জন্মগতভাবে শিংবিহীন পশু দিয়েও কোরবানি করা জায়েজ। তবে যদি শিং গোড়া থেকে ভেঙে যায় এবং এর প্রভাবে মস্তিষ্ক বা শরীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়, রক্তক্ষরণ ঘটে কিংবা পশু দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে সে পশু দিয়ে কোরবানি করা বৈধ হবে না। (ফতোয়ায়ে আলমগিরি, খণ্ড: ৫, পৃষ্ঠা: ২৯৭)
