গোসলের পর কি অজু করতে হবে, যা আছে হাদিসে

নামাজ বিশুদ্ধ হওয়ার অন্যতম শর্ত অজু করা। অজু ছাড়া নামাজ পড়লে হবে না। অজু করে নামাজ পড়তে আদেশ করেছেন আল্লাহ। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনরা, যখন তোমরা নামাজের জন্য প্রস্তুত হবে, তখন তোমাদের মুখ ও হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে এবং মাথা মাসেহ করবে আর পা টাখনু (গ্রন্থি) পর্যন্ত ধৌত করবে।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত: ৬)
অজুর ফরজ চারটি। যথা: এক. সমস্ত মুখ ধোয়া। দুই. উভয় কান কনুইসহ ধোয়া। তিন. গোড়ালিসহ দুই পা ধৌত করা। চার. মাথার চার ভাগের এক ভাগ মাসাহ (পানি দিয়ে স্পর্শ) করা। এই চারটির কোনো একটা বাদ পড়লে অজু হবে না। পরিপূর্ণভাবে এই চার কাজ করলে অজু হয়ে যায়। এ ছাড়া অজুর আরও কিছু সুন্নত আছে। সেগুলোও করা সওয়াবের কাজ। এতে অজু পূর্ণ হয়।
প্রশ্ন হলো, সব শর্ত মেনে গোসলের পর নামাজের জন্য নতুন করে অজু করতে হবে কি?
ফরজ ও সুন্নত মেনে গোসল শেষ করার পর নামাজের জন্য আলাদাভাবে অজু করার দরকার নেই। গোসল করলেই অজু হয়ে যায়। ইসলামি শরিয়তে আছে, গোসলের সব নিয়ম মেনে গোসল করলে সেখানে অজু ও পবিত্রতার সব শর্ত পাওয়া যায়, তাই আলাদাভাবে অজু করতে হবে না। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘হজরত মুহাম্মদ (সা.) গোসলের পর অজু করতেন না।’ (সুনানে নাসায়ি, আয়াত: ২৫৩)
লক্ষণীয় হলো, ফরজ গোসল হলে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া ফরজ এবং পরিপূর্ণ অজু করে নেওয়া সুন্নত। গোসল ফরজ না হলে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া সুন্নত। পরিপূর্ণ অজু করা মোস্তাহাব।
গোসলের ফরজ তিনটি। ১. কুলি করা। ২. নাকে পানি দেওয়া এবং ৩. পুরো শরীর ভালোভাবে ধৈৗত করা।
গোসলের ফরজগুলো আদায় করলে অজুর ফরজও আদায় হয়ে যায়। এ জন্য গোসলের পর নতুন করে অজুর প্রয়োজন নেই। হানাফি মাজহাবের ফতোয়ার কিতাব আলমগিরিতে আছে, ‘গোসলই অজুর জন্য যথেষ্ট। তবে গোসলের আগে অজু করা সুন্নত। গোসলের পর অজুর প্রয়োজন নেই। তবে কেউ চাইলে নামাজের আগে নতুন করে অজু করতে পারে। এ ক্ষেত্রে মুস্তাহাব আমলের সওয়াব পাওয়া যাবে।’ (ফতোয়ায়ে আলমগিরি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ১৪)
মুসলিম বাংলার ওয়েবসাইটের এক ফতোয়া বলা হয়েছে, ‘ফরজ ও সুন্নত মেনে গোসল করার নতুন করে অজুর করার প্রয়োজন পড়ে না। গোসল শেষে প্রস্রাব-পায়খানা করলে নতুন করে গোসলের প্রয়োজন নেই। শুধু অজু করে নেওয়া যথেষ্ট। গোসলের পর অজু করাকে কোনো কোনো ফকিহ ‘পানির অপচয়’ বলে উল্লেখ করেছেন। কেউ কেউ সুন্নতের বিপরীত বলেছেন। তবে কেউ চাইলে নামাজের আগে নতুন করে অজু বানিয়ে নিতে পারে।’

