logo

অক্সিজেন নিলে কি রোজা ভেঙে যাবে

অক্সিজেন নিলে কি রোজা ভেঙে যাবে

অনেকের শ্বাসকষ্টের কারণে প্রায়ই অক্সিজেন নিতে হয়। কারও আবার মাঝেমধ্যে অক্সিজেন নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। রমজানে রোজা রেখেও অক্সিজেন নিতে হয় কারও কারও। কিন্তু রমজানে অক্সিজেন নিলে রোজা হবে কি না, এ নিয়ে দ্বিধায় পড়ে যান অনেক রোজাদার। 

অক্সিজেন দুই ধরনের। ১. ওষুধ মিশ্রিত অক্সিজেন। ২. শুধু বাতাসভর্তি অক্সিজেন। রোজা অবস্থায় ওষুধ ব্যবহৃত অক্সিজেন নিলে রোজা ভেঙে যাবে। শুধু বাতাসের অক্সিজেন নিলে রোজা ভাঙবে না। রোজা ভঙ্গের কারণ হচ্ছে, স্বাভাবিক প্রবেশ পথ দিয়ে পেটে বা মস্তিষ্কে খাদ্যদ্রব্য বা ওষুধ প্রবেশ করা। (বাইহাকি, হাদিস: ৮৫১২, ফাতহুল বারি, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ২০৭)

ড. শায়খ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ বলেন, ‘কিছু কিছু রোগীদের যে অক্সিজেন দেওয়া হয়, সেটা রোজা নষ্ট করবে না। যেহেতু এই অক্সিজেনের সঙ্গে অন্য কোনো উপাদান যোগ করা হয় না। তাই এর বিধান প্রাকৃতিক বাতাস গ্রহণের মতো। (মুফাত্তিরাতুস সিয়াম আল-মুআসিরা, পৃষ্ঠা: ৫০)

শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ ও সক্ষম, স্বাভাবিক জ্ঞানসম্পন্ন, সাবালক সব মুসলিম নারী ও পুরুষের জন্য রমজানের পূর্ণ মাস রোজা পালন করা ফরজ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের যারা এ (রমজান) মাস পাবে, তারা যেন তাতে রোজা পালন করে। তোমাদের যারা পীড়িত বা ভ্রমণে থাকবে, তবে অন্য সময়ে তা এর সমপরিমাণ সংখ্যায় পূর্ণ করবে। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫)

রমজানে অসুস্থতা কিংবা বার্ধক্যজনিত কারণে কারও পক্ষে রোজা রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়লে রোজা ভাঙতে পারবে। তবে পরে নিকটতম সময়ে কাজা আদায় করতে হবে। কাজা আদায় করা সম্ভব না হলে ফিদিয়া (বিনিময় বা মুক্তিপণ) দিতে হবে।

ফিদিয়ার পরিমাণ হলো একেকটি রোজার জন্য এক ফিতরা। ফিতরার পরিমাণ সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, ‘সদকাতুল ফিতর হলো ‘এক সা’ (৩ কেজি ৩০০ গ্রাম) খাবার। (২০২৬ সালের সর্বনিম্ন ফিতরার পরিমাণ ১১০ টাকা নির্ধারণ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা)। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘যারা রোজা রাখতে সক্ষম নয়, তাদের জন্য একজন মিসকিনকে খাবার খাওয়ানোই ফিদিয়া।’