logo

ভ্রমণে নিরাপদ থাকার দোয়া ও আমল

ভ্রমণে নিরাপদ থাকার দোয়া ও আমল

ছুটির দিনগুলোতে অনেক মানুষই ঘুরতে বের হন। বিশেষ করে ঈদের দিনগুলোতে প্রায় মানুষই পছন্দের জায়গায় বেরিয়ে পড়েন। কেউ বের হন পরিবার নিয়ে। সবাই ভ্রমণে নিরাপদ থাকতে চান। কিন্তু তারপরও ঘটে নানা দুর্ঘটনা। মত্যুও হয় কারও কারও। ইসলাম কিছু দোয়া ও আমলের কথা বলেছে, যেগুলো পড়লে ভ্রমণে নিরাপদ থাকা যায়। এগুলো পড়া ও আমলের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া হয়। এখানে ভ্রমণে নিরাপদ থাকার দোয়া ও আমল উল্লেখ করা হলো—

ঘর থেকে বের হওয়ার দোয়া
ঘর থেকে বের হওয়ার সময় আল্লাহর ওপর ভরসা করে বের হতে হবে। এ সময় একটি দোয়া পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। দোয়াটি পড়লে সব ধরনের বিপদ-আপদ ও অসুবিধা থেকে আল্লাহ রক্ষা করেন। দোয়াটি হলো—

بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ وَ لَا حَوْلَ وَ لَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللَّهِ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহি, ওয়া লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা, ইল্লাহ বিল্লাহি।
অর্থ: আল্লাহর নামে, আল্লাহর ওপরই ভরসা করলাম। আল্লাহ তাআলার সাহায্য ছাড়া বিরত থাকা ও মঙ্গল লাভ করার শক্তি কারও নেই।

আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি কেউ ঘর থেকে বের হওয়ার সময় এ দোয়াটি পড়ে, তাকে বলা হয়, ‘আল্লাহই তোমার জন্য যথেষ্ট। তুমি নিরাপত্তা লাভ করেছ সব ধরনের ক্ষতি থেকে। শয়তান তার থেকে দূরে সরে যায়।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৪২৬)

যানবাহনে ওঠার দোয়া
মুহাম্মদ (সা.) সফরের জন্য কোথাও বের হলে সওয়ারির ওপর পা রেখে তিনবার তাকবির (আল্লাহু আকবার) বলতেন। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলতেন। এরপর এ দোয়া পড়তেন—

سُبۡحَـٰنَ ٱلَّذِی سَخَّرَ لَنَا هَـٰذَا وَمَا كُنَّا لَهُۥ مُقۡرِنِینَ , وَإِنَّاۤ إِلَىٰ رَبِّنَا لَمُنقَلِبُونَ

উচ্চারণ: সুবহানাল্লাজি সাখখারা লানা হাজা, ওয়া মা কুন্না লাহু মুকরিনিন, ওয়া ইন্না ইলা রব্বিনা লামুন কলিবুন।

অর্থ: মহান আল্লাহর পবিত্রতা, যিনি একে (বাহন) আমাদের অধীন করে দিয়েছেন। অথচ আমরা একে অধীন করতে সক্ষম ছিলাম না। আমরা আমাদের প্রতিপালকের কাছে প্রত্যাবর্তনকারী। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৩৪২)

নৌকা বা জাহাজে ভ্রমণের দোয়া
হজরত মুহাম্মদ (সা.) দোয়া পড়ে নৌকা বা জাহাজে উঠতেন। দোয়াটি হলো—

بِسْمِ اللَّهِ مَجْرَاهَا وَمُرْسَاهَا ۚ إِنَّ رَبِّي لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি মাজরেহা ওয়া মুরসাহা, ইন্না রাব্বি লাগাফুরুর রহিম।

অর্থ: আল্লাহর নামেই এর গতি ও স্থিতি। আমার পালনকর্তা অতি ক্ষমাপরায়ণ, মেহেরবান। (সুরা হুদ, আয়াত: ৪১)

 

যাত্রাবিরতিতে পড়ার দোয়া 
ভ্রমণের মাঝপথে কোথাও অবস্থান করলে একটি দোয়া পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি বলেন, ‘এ দোয়াটি পড়লে ঘরে ফেরা পর্যন্ত কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারবে না। দোয়াটি হলো—

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

উচ্চারণ: আউজু বিকালিমা তিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক।’

অর্থ: আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালেমার (বাক্য) মাধ্যমে সব ধরনের অনিষ্ঠ থেকে নিরাপত্তা চাচ্ছি। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭৯৮) 

ভ্রমণের সময় এ দোয়া ও আমলগুলো করার পাশাপাশি বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করা যেতে পারে। তাঁর নামে জিকির করা যেতে পারে। রাস্তায় চলাচলের নিয়ম মানার সঙ্গে সঙ্গে সজাগ দৃষ্টি রাখা নৈতিক দায়িত্ব।