logo

কীভাবে বের করবেন ভোটার নম্বর ও কেন্দ্র

কীভাবে বের করবেন ভোটার নম্বর ও কেন্দ্র

ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসে, ততই বাড়ে কৌতূহল আর কিছুটা দুশ্চিন্তাও। ‘ভোটকেন্দ্র কোথায় এখনও জানি না, আগে তো বাসায় স্লিপ দিয়ে যেত’ - অনেকেই এবার এমন প্রশ্ন করছেন।

কারণ এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোট; দুটি ভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভোটের সময়ও এগিয়ে এনে, এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। ফলে শেষ মুহূর্তে গুগল ও সামাজিক মাধ্যমে মানুষ খুঁজছেন ভোটার নম্বর কীভাবে বের করব, ভোটকেন্দ্র কোথায়, স্লিপ পাব কোথায় ইত্যাদি।

নিচে সহজ ভাষায় এসব প্রশ্নের উত্তর তুলে ধরা হলো।

ইলেকশন ২০২৬ নিয়ে যা জানা জরুরি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে অংশ নিয়েছে ৫১টি দল। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দল নির্বাচনে রয়েছে।

এবারই প্রথম ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে অংশ নিচ্ছে। নিবন্ধন স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ অংশ নিচ্ছে না।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে এবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোটার রয়েছে। মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার।

পুরুষ: ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার

নারী: ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার

হিজড়া ভোটার: ১,১২০ জন

ভোট কখন শুরু, কখন শেষ

আগে সাধারণত সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট হতো। কিন্তু এবার ভোটগ্রহণ শুরু হবে সকাল সাড়ে ৭টায় এবং চলবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

অর্থাৎ ভোট দেওয়ার জন্য এক ঘণ্টা অতিরিক্ত সময় রাখা হয়েছে।

ভোট কেন্দ্র কোথায়, যেভাবে জানবেন

অনেকেই এবার বাসায় কোনো ভোটার স্লিপ পাননি। তবে চিন্তার কিছু নেই। নির্বাচন কমিশন ভোটারদের জন্য একাধিক উপায় চালু করেছে।

নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে
ইসির ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘ভোট কেন্দ্র’ অপশনে ক্লিক করতে হবে।

সেখানে দুটি তথ্য দিতে হবে - জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর ও জন্ম তারিখ।

এই তথ্য দিয়ে সার্চ করলেই পাওয়া যাবে ভোটার নম্বর, ক্রমিক নম্বর, লিঙ্গ, ভোট কেন্দ্রের নাম ও কেন্দ্রের ঠিকানা। এমনকি ম্যাপে চিহ্নিত অবস্থানও দেখা যাবে।

স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি ২০২৬ অ্যাপ
নির্বাচন কমিশন একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে ‘Smart Election Management BD 2026’।

এই অ্যাপে ১০ বা ১৩ ডিজিটের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এবং জন্ম তারিখ দিলেই পাওয়া যাবে ভোট কেন্দ্র ও ভোটার নম্বর। মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য এটি দ্রুত ও সহজ পদ্ধতি।

হটলাইন নম্বর ১০৫
যারা অনলাইনে স্বচ্ছন্দ নন, তারা সরাসরি ফোন করতে পারেন হটলাইন নম্বর ১০৫-তে। এরপর অপারেটরের সাথে কথা বলতে ৯ চাপুন।

তারপর জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও জন্ম তারিখ জানালেই তারা ভোট কেন্দ্র ও ভোটার নম্বর বলে দেবে আপনাকে।

ভোটার স্লিপ: আসল তথ্য কী

অনেকেই ‘ভোটার স্লিপ চেক’ বা ‘ভোটার স্লিপ PDF’ খুঁজছেন।

ভোটার স্লিপ সাধারণত একটি কাগজ, যেখানে ভোটারের নাম, নম্বর ও কেন্দ্র লেখা থাকে। আগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা প্রার্থীদের পক্ষ থেকে এসব স্লিপ দেওয়া হতো।

তবে এটি সরকারি কোনো বাধ্যতামূলক কাগজ নয়। এবার বেশিরভাগ জায়গায় এই স্লিপ দেওয়া হয়নি। তাই স্লিপ না পেলেও সমস্যা নেই। উপরের পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে তথ্য জানা যাবে।

সংসদ ও গণভোটের ব্যালট কোথায় ফেলবেন

এবার দুটি ব্যালট পাবেন। সংসদ নির্বাচনের সাদাকালো ব্যালট ও গণভোটের গোলাপি ব্যালট। 

অনেকের প্রশ্ন করতে পারেন- দুটি কি আলাদা বাক্সে ফেলতে হবে? নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, একই স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে দুইটি ব্যালটই ফেলতে হবে।

ফলাফল কখন জানা যাবে

ভোট শেষে কেন্দ্রে গণনা হবে। তারপর ফলাফল যাবে। এরপর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে।

সাধারণত রাতের মধ্যেই আসনভিত্তিক প্রাথমিক ফল জানা যায়। তবে এবার গণভোট একসাথে হওয়ায় সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে।

অনানুষ্ঠানিক পূর্ণ ফলাফল শুক্রবার দুপুর বা বিকাল পর্যন্ত আসতে পারে। চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ হতে শনিবার বা রোববার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

নতুন প্রধানমন্ত্রীকে শপথ পড়াবেন কে

নির্বাচনের তিন দিনের মধ্যে শপথ হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

বর্তমানে সংসদ কার্যকর না থাকায়, রাষ্ট্রপতি মনোনীত প্রধান বিচারপতি অথবা প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারেন; এমন সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।

ভোটের দিন সময় হাতে রেখে কেন্দ্রে যান, জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে নিন এবং শান্তভাবে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। সচেতন ভোটারই একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ভিত্তি।