logo

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গতানুগতিক কোনো নির্বাচন না : হাসনাত

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গতানুগতিক কোনো নির্বাচন না : হাসনাত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন গতানুগতিক কোনো নির্বাচন না। এই নির্বাচন নতুন করে দেশ গড়ার নির্বাচন। এই নির্বাচন রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের নির্বাচন। এই নির্বাচন চাঁদাবাজমুক্ত দেশ গড়ার নির্বাচন। কেউ যদি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কারচুপির চিন্তা করে থাকে তাহলে তাদের হাসিনা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। এখনও পর্যন্ত জুলাই যোদ্ধারা জেগে আছে। তারা কোনোরকম ষড়যন্ত্র বরদাস্ত করবে না। 

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় যশোর শহরের দড়াটানা ভৈরব চত্বরে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ভিপি আব্দুল কাদেরের পক্ষে অনুষ্ঠিত পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। 

হাসনাত বলেন, বিএনপির অনেক কর্মী-সমর্থক অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকতে চান না। তারা উপরে উপরে নেতার কথা শুনলেও ভেতরে ভেতরে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে থাকতে চান। তাদের কাছে যেতে হবে। তারা দাঁড়িপাল্লা-শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন।

তিনি বলেন, একটি পক্ষ মা-বোনদের হিজাব খুলে লাঞ্ছিত করছে, ভারতের দালালি করার চেষ্টা করছে। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিতে লিপ্ত হয়েছে। তারা বাংলাদেশের মানুষের প্রয়োজন, চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে না। তাদের নেতারা একদিকে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে কথা বলছেন, অন্যদিকে তাদের কর্মীরা ‘না’-এর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এটাই তাদের দ্বিমুখী রাজনীতি। তিনি বলেন, আমরা ইনসাফের পক্ষে রয়েছি এবং ১১ দলীয় ঐক্য বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি। 

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ব্যবসায়ীরা আজ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাই আপনাদের প্রত্যেককে মানুষের দ্বারে দ্বারে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে ভোট প্রার্থীর কাছে নয়, ভোট রয়েছে জনগণের হাতে। এমনকি যিনি চাঁদাবাজি করে জীবিকা নির্বাহ করেন, তিনিও তার সন্তানের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ চান। তাদের দাওয়াত দিন।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, শুক্রবার প্রশাসনের আচরণ সবাই দেখেছেন, যা ছিল এক ধরনের টেস্ট ম্যাচ। আবারও পুরোনো আওয়ামী কায়দায় পুলিশকে ব্যবহার করার চেষ্টা হচ্ছে। পুলিশকে মনে রাখতে হবে, আপনারা যে পোশাক পরেন তা জনগণের আস্থার প্রতীক। আপনারা বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকুন, কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে নয়। আপনারা জনগণের জন্য কাজ করেন।

হাসনাত বলেন, এক সময় ডিবি হারুন, বেনজীর আহমেদের মতো লোকেরাও অধস্তন অফিসারদের চাপ প্রয়োগ করেছিল। কিন্তু আজ তারা দেশেও থাকতে পারছে না। আপনারা জুলাই আন্দোলনের কথা ভুলে যাবেন না। গুলি-গোলাবারুদ দিয়েও জনগণকে থামানো যায়নি। তাই গোলামির মানসিকতা পরিত্যাগ করুন। আগের তিনটি নির্বাচনের মতো আর কোনো প্রহসনের নির্বাচন আমরা চাই না।

পুলিশের উদ্দেশে হাসনাত বলেন, আপনারা অবৈধ টাকার স্পর্শ থেকে দূরে থাকুন। একদিন গোলামি করলে আগামী পাঁচ বছর রাজনৈতিক নেতাদের কাছে পোস্টিং ও বদলির জন্য দাসত্ব করতে হবে। আপনাদের বিএনপির পুলিশ, জামায়াতের পুলিশ কিংবা এনসিপির পুলিশ হওয়ার দরকার নেই, আপনারা বাংলাদেশের পুলিশ হন। আমরা আপনাদের পাশে থাকব, পাহারা দেব। পুরো বাংলাদেশ আপনাদের সহযোগিতা করবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির পর দেশ কেমন হবে তা আপনাদের ভূমিকার ওপরই নির্ধারিত হবে।

পথসভায় আরও বক্তৃতা করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সাকিব শাহরিয়ার। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। পথসভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টি যশোরের প্রধান সমন্বয়কারী নুরুজ্জামান। সভাশেষে ভৈরব চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য নির্বাচনি মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।