গণভোটের পক্ষে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের প্রচারণা দণ্ডনীয় : ইসি

গণভোটকে কেন্দ্র করে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালালে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে গণভোটের বিষয়ে জনগণকে তথ্য দেওয়া ও সচেতন করার কাজে তারা অংশ নিতে পারবেন— শর্ত হলো, কোনো পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো যাবে না।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে নির্বাচন কমিশন এ নির্দেশনা দিয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, গণভোটে কোনো পক্ষে প্রচার চালানো হলে তা ভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫–এর ২১ ধারা এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২–এর ৮৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধানসংক্রান্ত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকার ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে। সরকারের উপদেষ্টাদের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানও প্রচারে যুক্ত রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের একতরফা প্রচারে অংশ নেওয়ার বৈধতা নিয়ে গত কিছুদিন ধরে আলোচনা ও বিতর্ক চলছিল।
প্রসঙ্গত, গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫–এর ২১ ধারায় বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুযায়ী যেসব কার্য অপরাধ বা আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়, একই ধরনের কার্য গণভোটের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অপরাধের বিচার ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে।
এ ছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২–এর ৮৬ ধারায় উল্লেখ রয়েছে— প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি যদি নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে তার সরকারি পদমর্যাদার অপব্যবহার করেন, তবে তিনি সর্বনিম্ন এক বছর থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।