গাজীপুরে ঘরমুখী মানুষের ঢল, তীব্র যানজট

ভোটের ছুটিকে ঘিরে ঈদের সময়ের মতো ঘরমুখী মানুষের ঢল নেমেছে গাজীপুরে। হাতে ব্যাগ, মাথায় বস্তা নিয়ে হাজারো শ্রমজীবী মানুষ পরিবার-পরিজনসহ বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ যাত্রা শুরু করায় গাজীপুরের ঢাকা–টাঙ্গাইল ও ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
টানা চার দিনের ছুটি পাওয়ায় গাজীপুরের অধিকাংশ পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা বাড়ি ফিরছেন। প্রায় সব কারখানাই শ্রমিকদের ছুটি দিয়েছে। ফলে চন্দ্রা ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ১০ কিলোমিটারজুড়ে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। একই চিত্র দেখা গেছে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কেও।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোট দিতে বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যেই তারা এই যাত্রা করছেন। তবে সন্ধ্যার পর থেকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেকে গণপরিবহন পাচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ ট্রাক বা পিকআপ ভ্যানে করেও বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। সন্ধ্যার পর যাত্রীর চাপ বাড়তে থাকলেও রাত ৯টার পর থেকে যানজট প্রকট আকার ধারণ করে।
গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় একটি গার্মেন্টসে কর্মরত মাহবুব আলম বলেন, ভোটের কারণে চার দিনের ছুটি দিয়েছে। বহুদিন পর ভোট দেব, তাই কষ্ট হলেও বাড়ি যাচ্ছি। কিন্তু গাড়ি পাওয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।
পোশাক কারখানার শ্রমিক কাওছার হোসেন বলেন, গাজীপুরের প্রায় সব কারখানাই আজ ছুটি দিয়েছে। আগামীকালও যানজট হতে পারে, তাই রাতেই রওনা হয়েছি। চার দিনের ছুটিতে ভোটও দেব, গ্রামের বাড়িতেও সময় কাটাব। এককথায় ঈদের মতোই আনন্দ লাগছে।
মহাসড়কে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ জানায়, শিল্পকারখানার শ্রমিকেরা চন্দ্রা হয়ে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছেন। এ কারণে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকায় যানবাহনের চাপ বেড়ে গেছে। তবে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং শ্রমিকদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে।
নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, ভোট উপলক্ষে শিল্পকারখানায় টানা কয়েক দিনের ছুটি থাকায় মহাসড়কে মানুষ ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। কিছু এলাকায় যানজট সৃষ্টি হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।