জামালপুরে অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে জামালপুর জেলায় ভোটের প্রস্তুতির পাশাপাশি চলছে প্রার্থীদের শেষ সময়ের প্রচার-প্রচারণা।রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জেলার ভোটকেন্দ্রগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ, অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং সাধারণ কেন্দ্রে ভাগ করা হয়েছে। জেলার ৭টি উপজেলা, ৮টি পৌরসভা ও ৬৮টি ইউনিয়নে মোট ৬২৩টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১২২টি, ঝুঁকিপূর্ণ ২১২টি এবং সাধারণ ২৮৯টি। প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, মোট কেন্দ্রের ৫৩.৬ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ।
কেন্দ্র সংখ্যা অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি ভোটকেন্দ্র জামালপুর-৫ (সদর) আসনে, যেখানে ১৬১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৫টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৭৫টি ঝুঁকিপূর্ণ। সবচেয়ে কম ভোটকেন্দ্র রয়েছে জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী), ৮৮টি কেন্দ্র নিয়ে। ঝুঁকির দিক থেকেও এগিয়ে জামালপুর-৫ (সদর) আসন।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক নেতাদের দাবি, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ না নিলেও দলটির নেতাকর্মীদের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় নিরাপত্তা শঙ্কাও তৈরি হয়েছে, যার ফলে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির প্রার্থী (জামালপুর-৫) ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, আমরা সবসময় একটি কথা বলে থাকি। জামায়াতে ইসলাম একসময় গুপ্ত রাজনীতি করেছে। তাদের যদি গুপ্ত কোনো পরিকল্পনা থাকে। সেক্ষেত্রে নির্বাচনে শঙ্কিত বা শঙ্কা থাকতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা বেশি।
অন্যদিকে জামালপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও সরিষাবাড়ী-৪ আসনের প্রার্থী মো. আব্দুল আওয়াল বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হলে বিএনপির পরাজয় যে নিশ্চিত এটা তারা নিজেরা উপলব্ধি করতে পারছে। কাজেই এই পরাজয় সহ্য করার মতো ধৈর্য শক্তি তাদের মধ্যে নেই। এ কারণে অতীতে যারা একই কাজ করেছেন ফ্যাসিবাদী কায়দায়। ওই একই কাজ আমাদের বন্ধুপ্রতিম সংগঠন করার চেষ্টা করছে। এটি খুবই বেদনাদায়ক ও দুঃখজনক।
নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণের কথা জানিয়ে জেলা পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক বলেন, এবার সব কিছু ভেরি লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার। কেন্দ্র দখল বা অস্ত্রবাজির কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি এমন ভাবনা করে, সেটি কেবল বাজে স্বপ্ন। আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. ইউসুফ আলী জানান, কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, ব্যাটালিয়ন, আনসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা উপস্থিত থাকবেন। এতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন।
জামালপুরে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও স্বতন্ত্রসহ ৩১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২১ লাখ ১২ হাজার ১৮৭ জন ভোটার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।