logo

বিএনপি থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন সহজ ছিল না : রুমিন ফারহানা

বিএনপি থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন সহজ ছিল না : রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনে বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থীকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা দলের বহিষ্কৃত জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। 

বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, বিএনপি জোট সমর্থিত প্রার্থী জুনায়েদ আল হাবীব ‘খেজুর গাছ’ প্রতীকে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট। ৩৮ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয় পান রুমিন ফারহানা।

এমন জয়ের পর শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন রুমিন ফারহানা। জয়ের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি থেকে বেরিয়ে এসে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা তার জন্য সহজ ছিল না। তার চেয়েও বেশি কঠিন সময় পার করেছেন তার নেতাকর্মীরা। গত ১৭ বছর ধরে তারা ত্যাগ ও পরিশ্রম করেছেন, অনেকে ঘরে থাকতে পারেননি, বহিষ্কারের মুখে পড়েছেন। 

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি না জিতলে হয়তো আবার ঢাকায় ফিরে পেশায় যোগ দিতাম। কিন্তু আমার কর্মীরা কোথায় যেত? তাদের এই ভালোবাসার ঋণ কীভাবে শোধ করব?’

ভোটগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগও তোলেন আলোচিত এই স্বতন্ত্র প্রার্থী। তিনি দাবি করেন, দুপুরের পর কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট কারচুপির চেষ্টা হয়েছে এবং ফলাফল বিলম্বিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। জালিয়াপাড়া কেন্দ্রে গিয়ে নিজে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন রুমিন ফারহানা।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, দলীয় প্রার্থী না হওয়ায় নিজের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে হলে কাজের বিকল্প নেই। আবার যদি ভোটে দাঁড়াতে হয়, কাজই হবে একমাত্র ভরসা।

এ সময় নিজের নির্বাচনী প্রতীক হাঁসের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই হাঁস-মুরগি ও কবুতর পালনের অভ্যাস ছিল তার। পারিবারিক কারণে একসময় শহুরে জীবনে চলে গেলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফিরে আবার সেই শখে ফিরেছেন। অবসর সময় কাটান হাঁস-মুরগির সঙ্গেই—এই আবেগ থেকেই ‘হাঁস’ প্রতীক বেছে নেওয়া।

বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন রুমিন ফারহানা। এ কারণে গত ৩০ ডিসেম্বর তাকে দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার পক্ষে কাজ করায় সরাইল উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের ১০ নেতাকেও সম্প্রতি বহিষ্কার করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দল যদি তাকে ফেরাতে চায়, তবে তার সঙ্গে বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদেরও দলে ফিরিয়ে নিতে হবে।