বরিশালে বিপুল শক্তির বিপরীতে ১ নারী প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকে বরিশালে বইছে ভোটের আমেজ। এবারের নির্বাচনে পুরুষ ভোটারের পাশাপাশি পিছিয়ে নেই নারী ভোটারও। জয়-পরাজয়ের সমীকরণে নারীদের ভূমিকাও কম নয়।
বরিশালে বিপুল শক্তির বিপরীতে নারী প্রার্থী মাত্র একজন। এতে নারী প্রতিনিধিত্ব আরও পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে সচেতন মহল। প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবতার ফাঁকে বরিশালের নারীরা কতটা পাচ্ছেন তাদের প্রাপ্য অধিকার।
নারীরা সংসারের ভিত, সমাজের শক্তি, দেশের অগ্রযাত্রার সহযাত্রী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারীরাই বরিশালের ভোটের মাঠের বড় শক্তি। তবে ভোটের মাঠে নারীদের প্রভাব বড্ড ঘোলাটে। নানা প্রতিবন্ধকতা আর নিরাপত্তাহীনতার বেড়াজালে বন্দি তারা। ফলে বাংলার ‘ভেনিস’ আজও হয়ে ওঠেনি নারীবান্ধব।
বিএম কলেজের শিক্ষার্থী সায়ন্তিকা দাশ বলেন, সব সময় দেখেছি বাবা যাকে বলত আপু, মা ও দাদি তাকেই ভোট দিত। সেখানে তাদের প্রার্থী নিয়ে কোনো চিন্তা ছিল না। তবে এবারের বিষয়টি ভিন্ন। সবারই পছন্দের প্রার্থী আছে। ৬টি আসনে অন্তত ৬ নারী প্রার্থী হলে ভালো হতো।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হুমায়রা ইয়াসমিন বলেন, নারীদের ভোটের প্রভাব কিন্তু ভোটের মাঠে কম নয়। তবে নারীদের সবসময় অবহেলা করা হয়। ৩৬ প্রার্থীর মধ্যে মাত্র একজন নারী প্রার্থী এটা আসলেই দুঃখজনক। আমরা চাই রাজনৈতিক দলগুলো নারীদের এগিয়ে রাখুক।
গৃহিণী আনার কলি বলেন, দল আর মার্কা দেখে এবার ভোটের মাঠে ভোট দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যে নারীদের নিরাপত্তা আর কর্মসংস্থানের কথা মাথায় রাখবে তাকেই এগিয়ে রাখব আমরা।
জেলার ছয়টি আসনে এবারের নির্বাচনে মোট ৩৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর মধ্যে মাত্র একজন নারী। ভোটের মাঠে তাকেও পড়তে হচ্ছে নানা প্রতিবন্ধকতায়।
বরিশাল ৫ আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের প্রার্থী ডা. মনিষা চক্রবর্তী বলেন, বাংলাদেশের নারীরা দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে পিছিয়ে রয়েছে। নারীদের বিকাশের রাস্তা দিন দিন কঠিন হচ্ছে। আরেক দিকে আমরা দেখতে পাচ্ছি সাম্প্রদায়িক শক্তি নারীদের ঘরে ঢুকাতে চাচ্ছে। বাংলাদেশকে আফগানিস্তান বানাতে চাচ্ছে। নারীদের কাজ করার প্রয়োজন নেই এ ধরনের স্পর্ধামূলক মন্তব্য তারা করছেন।
তিনি আরও বলেন, আমি বরিশালে একমাত্র নারী প্রার্থী এটা মোটেও আনন্দের কিছু নয়। আমরা খুশি হতাম যদি ৩৬ জনের ১৮ জন নারী আর ১৮ জন পুরুষ প্রার্থী হতো।
এ বিষয়ে বরিশাল সুজন-এর সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে নারীদের এগিয়ে রাখার কথা থাকলেও সে নিয়ম মানেনি কোনো দল। এ ছাড়া সমাজে নারীদের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ায় পছন্দের প্রার্থীকে চাইলেও ভোট দিতে পারেন না তারা। ফলে নারী প্রতিনিধিত্ব আরও পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
বরিশালের ছয়টি আসনে মোট ভোটার ২২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১১ লাখ ৫৮ হাজার ২২০ জন আর নারী ১১ লাখ ২৬ হাজার ৭৩৮ জন।