চট্টগ্রামের ১৪ আসন বিএনপির, দুটিতে জামায়াতের জয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরের ১৬টি সংসদীয় আসনে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলের হিসাবে ১৪টি আসনে বিএনপি প্রার্থী ও দুটি আসনে জামায়াত প্রার্থীর জয় নিশ্চিত হয়েছে। অন্যদিকে চন্দনাইশে কর্নেল অলীর দুর্গেরও পতন হয়েছে এবারের সংসদ নির্বাচনে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রগুলোতে গণনা কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর রাত পর্যন্ত পাওয়া ফলাফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
এখন পর্যন্ত জয় নিশ্চিত হওয়া বিএনপি প্রার্থীরা হলেন— চট্টগ্রাম-১ আসনের নুরল আমিন, চট্টগ্রাম ২ আসনের সরোয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৩ আসনের মোস্তফা কামাল পাশা, চট্টগ্রাম-৬ আসনে হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ আসনে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম-১২ আসনে এনামুল হক, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনের সরোয়ার জামাল নিজাম, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে জসিম উদ্দিন। চটগ্রাম-১৫ আসনে জামায়াতের জহিরুল ইসলাম ও চট্টগ্রাম-১৬ আসনে শাহজাহান চৌধুরীও কেন্দ্র ঘোষিত ফলাফলে জয়ী হয়েছেন। বাকি আসনগুলোতে বিএনপি প্রার্থী বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে।
চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে মোট ১০৬ কেন্দ্রের মধ্যে ১০৩টি কেন্দ্রের ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকে নুরুল আমিন পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৩৩১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান পেয়েছেন ৭৯ হাজার ১৮৩ ভোট।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে ১৪১ কেন্দ্রের মধ্যে ১০৭টি কেন্দ্রের ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকে সরওয়ার আলমগীর পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ৬১৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল আমিন পেয়েছেন ৫১ হাজার ২১৯ ভোট।
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে মোট ৮৩টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা পেয়েছেন ৭২ হাজার ৫১৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ আলাউদ্দিন পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৮৭২ ভোট।
চার আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ১২৪টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থী মো. আনোয়ার ছিদ্দিক পেয়েছেন ৮৯ হাজার ২৬৮ ভোট। তবে বিজয়ী আসলাম চৌধুরীর ফলাফল প্রকাশ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও নগরীর একাংশ) আসনে মোট ১৪৩টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন পেয়েছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৯৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিকশা প্রতীকে খেলাফত মজলিসের মো. নাসির উদ্দিন পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬২৯ ভোট।
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে মোট ৯৫টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২০১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোমবাতি প্রতীকে ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ ইলিয়াছ নূরী পেয়েছেন ২৬ হাজার ৬৯৬ ভোট। আসনটিতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থী মো. শাহাজাহান মঞ্জু পেয়েছেন ২১ হাজার ১৩ ভোট।
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে মোট ৯২ কেন্দ্রের মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকে হুমাম কাদের চৌধুরী ১ লাখ ৩ হাজার ৬৭, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থী এটিএম রেজাউল করিম ৩৮ হাজার ৬০৫ ভোট। চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী ও নগরীর একাংশ) আসনে মোট ১৭৯ কেন্দ্রের মধ্যে ১৩৩টি কেন্দ্রের ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকে এরশাদ উল্লাহ পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ১২২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থী ডা. আবু নাছের পেয়েছেন ৩৬ হাজার ২৪১ ভোট এবং মোমবাতি প্রতীকে ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান পেয়েছেন ৩২ হাজার ৮৫৮ ভোট ও শাপলা কলি প্রতীকে এনসিপির প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ পেয়েছেন ১ হাজার ৯৬৯ ভোট।
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে ১২১ কেন্দ্রের মধ্যে ৭৬টি কেন্দ্রের ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকে আবু সুফিয়ান পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৪১৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থী ডা. একেএম ফজলুল হক পেয়েছেন ৩১ হাজার ৩৩০ ভোট।
চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, হালিশহর ও খুলশী) আসনে মোট ১৩৯ কেন্দ্রের মধ্যে ১৩৪টি কেন্দ্রের ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকে সাঈদ আল নোমান পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৩৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালী পেয়েছেন ৭১ হাজার ২৩ ভোট।
চট্টগ্রাম- ১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এগিয়ে আছেন।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির এনামুল হক এনাম বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। আসনটির মোট ১১৩টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী এনামুল হক এনাম পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬০ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোমবাতি প্রতীকে ইসলামী ফ্রন্টের ছৈয়দ এয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু পেয়েছেন ২৮ হাজার ৮০৬ ভোট। আসনটিতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ ফরিদুল আলম পেয়েছেন ২০ হাজার ৯৪০ ভোট।
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির সরোয়ার জামাল নিজাম বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। আসনটির মোট ৭৪টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার জামাল নিজাম পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৩৩৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মোমবাতি প্রতীকে ইসলামী ফ্রন্টের এসএম শাহজাহান পেয়েছেন ৩৪ হাজার ৬৬১ ভোট। আসনটিতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান পেয়েছেন ২১ হাজার ৩৯১ ভোট।
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ উপজেলা ও সাতকানিয়ার একাংশ) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির জসীম উদ্দীন আহমেদ বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। আসনটিতে মোট ১০০টি কেন্দ্রের ফলাফলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে বিএনপির প্রার্থী জসীম উদ্দীন আহমেদ পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৯৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্য জোট মনোনীত প্রার্থী কর্নেল অলি আহমেদের ছেলে অধ্যাপক ওমর ফারুক পেয়েছেন ৭২ হাজার ২৭৭ ভোট।
চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া উপজেলা ও সাতকানিয়ার একাংশ) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। আসনটিতে মোট ১৫৭টি কেন্দ্রের ফলাফলে জামায়াতের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজার ৬১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমীন পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ২৫ ভোট।
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। আসনটিতে মোট ১১২টি কেন্দ্রের ফলাফলে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৯৬০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পেয়েছেন ৮২ হাজার ২৩৭ ভোট। আসনটিতে ফুটবল প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী লেয়াকত আলী পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৭১ ভোট।