ভোটকেন্দ্রে মানতে হবে যেসব নিয়ম

রাত পোহালেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। এ ভোট দেওয়া নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু অনেকেই ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে কী করা যাবে আর কী করা যাবে না- এসব নিয়ে দ্বিধায় থাকেন। বিশেষ করে নতুন ভোটারদের মনে নানা প্রশ্ন থাকে। ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিয়ম সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো।
ভোটকেন্দ্রে সেলফি তোলা যাবে কি
অনেকেই চান ভোট দেওয়ার স্মৃতি ধরে রাখতে। বিশেষ করে যারা প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন বা গণভোটে অংশ নিচ্ছেন, তারা ছবি তুলে রাখতে আগ্রহী হন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রথমে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। তবে সমালোচনার মুখে পরে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ভোটার, প্রার্থী, এজেন্ট ও সাংবাদিকরা ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে যেতে পারবেন। ছবি তোলারও অনুমতি রয়েছে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- গোপন কক্ষে (যেখানে ব্যালট পেপারে সিল দেওয়া হয়) মোবাইল নিয়ে ঢোকা যাবে না। সেখানে কোনো ধরনের ছবি তোলাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অর্থাৎ, আপনি কেন্দ্রের ভেতরে সাধারণভাবে মোবাইল নিতে পারলেও ভোট দেওয়ার বুথে তা ব্যবহার করতে পারবেন না। গোপন ব্যালট নিশ্চিত করার জন্যই এই বিধিনিষেধ।
ভোটকেন্দ্রে কি মুখের নিকাব খুলতে হবে
অনেক নারী ভোটার মুখ ঢেকে নিকাব বা পর্দা ব্যবহার করেন। তাদের মধ্যে অনেকে জানতে চান, ভোট দিতে গেলে কি মুখ খোলা বাধ্যতামূলক?
নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, প্রথম পোলিং অফিসারের দায়িত্ব হলো ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করা। তিনি ভোটার তালিকায় থাকা ছবির সঙ্গে ভোটারের চেহারা মিলিয়ে দেখবেন এবং নাম ও ভোটার নম্বর উচ্চস্বরে ঘোষণা করবেন।
পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনে সাময়িকভাবে মুখ দেখাতে হতে পারে। এটি শুধুই পরিচয় যাচাইয়ের অংশ।
এরপর, ভোটারকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক সংবলিত একটি ব্যালট পেপার। গণভোটের জন্য ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ লেখা আরেকটি ব্যালট পেপার দেওয়া হবে এবং আঙুলে অমোচনীয় কালি লাগানো হবে।
যদি কেউ পরিচয় গোপন করে বা ছদ্মবেশে জাল ভোট দিতে যান এবং তা প্রমাণিত হয়, তাহলে তাকে নির্বাচনি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সোপর্দ করা হবে। সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বিচার হতে পারে। এমন অপরাধে সর্বোচ্চ ছয় মাসের জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে।
নির্বাচনের দিন যানবাহন চলবে কি
নির্বাচন ঘিরে যানবাহন চলাচলে কিছু বিধিনিষেধ থাকে। বিশেষ করে যারা অন্য জেলায় ভোটার কিন্তু বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন, তাদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী
- ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ।
- এ কারণে রাইড শেয়ারিং অ্যাপের মোটরসাইকেল সেবাও বন্ধ থাকে।
- ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত পিকআপ, মাইক্রোবাস, ট্রাক ও লঞ্চ চলাচল নিষিদ্ধ।
তবে কিছু যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে, যেমন-
- আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী
- সশস্ত্র বাহিনী
- প্রশাসন
- অনুমতিপ্রাপ্ত নির্বাচন পর্যবেক্ষক
- জরুরি সেবা, চিকিৎসা ও ওষুধ পরিবহন
- সংবাদপত্র বহনকারী যানবাহন
ভোটের আগে ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে তাই আগেভাগে সময় ও পরিবহন সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া ভালো।
ভোটকেন্দ্রে বাচ্চা নেওয়া যাবে কি
অনেক মা ভোটার জানতে চান, সন্তানকে সঙ্গে নেওয়া যাবে কি না।
নিয়ম অনুযায়ী, যদি সন্তানের বয়স এত কম হয় যে সে নির্বাচনি প্রতীক বোঝার মতো না হয়, তাহলে মা তাকে সঙ্গে নিয়ে গোপন কক্ষেও যেতে পারবেন। কিন্তু সন্তান যদি প্রতীক বোঝার মতো বয়সি হয়, তাহলে তাকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেওয়া গেলেও গোপন কক্ষে নেওয়া যাবে না। ভোটারকে একাই বুথে প্রবেশ করতে হবে।
আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
- ভোট দিতে গেলে জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা ভালো।
- কেন্দ্রের ভেতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পোলিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ মানা ভোটারের দায়িত্ব।
- গোপন ব্যালট ভোটের মূল নীতি; তাই কারও প্রভাব বা চাপে নয়, নিজের সিদ্ধান্তে ভোট দিন।
ভোট শুধু একটি দিন নয়, এটি নাগরিক দায়িত্ব পালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। নিয়ম জানা থাকলে অযথা দুশ্চিন্তা কমে এবং ভোটের অভিজ্ঞতাও হয় স্বচ্ছ ও নির্বিঘ্ন।