স্বামীর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভোট দিতে যাওয়ায় স্ত্রীকে তালাক

স্বামীর নিষেধ অমান্য করে ভোট দেওয়ায় বিবি জহুরা (৩২) নামে এক গৃহবধূকে মৌখিক তালাক দিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতা।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর বাঁশতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ওই গৃহবধূর স্বামীর নাম ইসমাইল হোসেন কাওসার। তিনি সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এবং একই এলাকার ইউসুফ হাজারীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে জহুরাকে ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করেন তার স্বামী কাওসার। কিন্তু জহুরা প্রথমবার ভোটার হওয়ায় তিন সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দিয়ে আসেন। তখন কাওসার ঘুমিয়ে ছিলেন। পরে কাওসার প্রতিবেশীর কাছে জানতে পারেন, তার স্ত্রী ভোট দিতে কেন্দ্রে গেছেন। এ খবর শুনে স্ত্রীকে ভোটদানের বিষয়ে জেরা করেন।
একপর্যায়ে কাওসার ক্ষিপ্ত হয়ে জহুরাকে মৌখিকভাবে তিন তালাক দেন। নিষেধ করেন তার ঘরে যেতে। তখন আশপাশের লোকজন এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়ে তাকে আটকে রেখে মারধর করেন। পরে তিনি কৌশলে পালিয়ে যান।
জাহাঙ্গীর নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, বিয়ের পর থেকেই সামান্য বিষয় নিয়েও জহুরাকে মারধর করতেন কাওসার। এ নিয়ে কয়েকবার সামাজিকভাবে সালিশি বৈঠকও হয়েছিল। ভোট দেওয়া নিয়ে এমন একটি ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে ফেনী সদর উপজেলার মধুয়াই বাজার এলাকার নুর আহম্মদের মেয়ে বিবি জহুরার সঙ্গে বিয়ে হয় কাওসারের। পরিবারে তাদের আবদুল আলিম শুভ (১২), সাবিনা আফরিস ইভানা (৮) ও ইসরাত জাহান ইসমাত (৪) নামের তিন সন্তান রয়েছে।
কাউসারের মা জানান, তিন সন্তানের মা এই পূত্রবধূকে ঘরে রাখব। প্রয়োজনে ছেলেকে ঘর থেকে বের করে দেব।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, বিষয়টি আমি অবগত নয়। তবে এমন ঘটনা কখনোই কাম্য নয়।