টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করলে ছাড় নয়: ইসি সানাউল্লাহ

নির্বাচনের আগের দিন রাতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের টাকাসহ আটকের ঘটনা ভালো বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
ভোটের আগের রাত থেকে বিভিন্ন জায়গায় টাকা লেনদেনের অভিযোগ ও প্রার্থীদের সমর্থম আটক প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, না, এটা অ্যালার্মিং না, বরং ধরা পড়াটা ভালো। যদি কেউ কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে টাকা ব্যবহার করতে চান, তারা সতর্ক হয়ে গেছেন। আমি শিউর যে, এখানে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। কেউ যদি ভেবে থাকেন যে ভোট কিনবেন, আমার মনে হয় না এবারে সেই প্রয়াস বা উদ্যোগ সফল হবে।
তিনি বলেন, সারা দেশে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলছে এবং কোথাও কোনো উদ্বেগজনক পরিস্থিতি নেই। একইসঙ্গে রাতভর বিভিন্ন দলের কর্মী সমর্থকদের টাকা বিতরণকালে আটকের ঘটনাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বলে জানান।
ইসি আরও বলেন, আমি সপরিবারে ভোট দিতে এসছি। সত্যিকার অর্থে সারাজীবন চাকরি করেছি, ভোট দেওয়ার সুযোগ হয়নি। আমি নিজেও প্রথমবারের মতো ভোট দিলাম, বিইং ইলেকশন কমিশনার। আমার সঙ্গে আমার পরিবারের সকলেই এসছেন। আমার নাতিকে আপনারা দেখেছেন। তাদের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের জন্যই আমরা কাজ করছি।
ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, সো ফার সো গুড। ইলেকশন অত্যন্ত সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এখানে এমনকি ভিড়ও নেই, পর্যাপ্ত স্পেস আছে। আমি দেখলাম প্রথম ঘণ্টায় ১৫০ জন ইতোমধ্যে এই কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন। আমি এজেন্টদের সঙ্গে কথা বললাম, তারাও অত্যন্ত সন্তুষ্ট ভোটের পরিবেশ নিয়ে। যেভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে, এখানে কোনো ওয়েটিং করতে হচ্ছে না। ভোটাররা আসছেন, ভোট দিয়ে চলে যাচ্ছেন। আলহামদুলিল্লাহ, ইনশাআল্লাহ খুব সুন্দরভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
সার্বিক ভোটের পরিবেশ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সারা দেশেই আমি যে প্রাথমিক ফিডব্যাক পেয়েছি, অত্যন্ত সুন্দরভাবে ভোট হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্য নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সানাউল্লাহ বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা বিষয় আসছে। এগুলো যাচাইয়ের পরেই বলা যাবে। তবে যা কিছু এই পর্যন্ত এসেছে, কমিশন পর্যন্ত আসে নাই। আসার প্রয়োজন হয় নাই। স্থানীয়ভাবেই সবকিছুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমরা এটাই চাই যে যেখানে যা ঘটবে, সঙ্গে সঙ্গে যেন সেটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ছড়ানোর বিষয়টি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, বিশ্বব্যাপী একটি সমস্যা। বলেন, কোনো অপতথ্য যেন না ছাড়ানো হয় বা এর পরিমাণ যেন কমে, সে জন্য সর্বাত্মকভাবে সচেষ্ট আছি এবং কাজ করে যাচ্ছি। তবে এটা একটা ডায়নামিক ডোমেইন। আমরা কোনো রেস্ট্রিকশন ইম্পোজ করি নাই। এখানে পলিটিকস আছে, আবার মানুষের ইউফোরিয়াও কাজ করে। তবে দিন শেষে আপনারা যারা মূলধারার মিডিয়ায় আছেন, আপনারা সত্যটা প্রকাশ করেন এবং মানুষ সত্যটা জানুক।
ভিকারুননিসা কেন্দ্রে ভোটার কম থাকার কথা উল্লেখ করে সারা দেশে ভোটার উপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি তো সারা দেশের খবর নিচ্ছি। শুধু একটা কেন্দ্র দেখে বলা যাবে না। এটা শহর এলাকা, মানুষের একধরনের অভ্যাস আছে। আশা করি, দিন যত বাড়বে, টার্নআউট বাড়বে। কোনো কোনো জায়গায় ইতোমধ্যে প্রচুর ভিড়, কোথাও স্লোলি পিকিংআপ। এভাবেই হয়ে থাকে।
তিনি আরও বলেন, জেনারেলি স্পিকিং, এখনও পর্যন্ত আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি যে কেউ আসতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন বা ভোট দিতে আসতে চাচ্ছেন না। এমনটা নয়। ইনশাআল্লাহ দিন শেষে ভালো একটি টার্নআউট হবে।