নতুন সরকারের হাতে যে প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তর হবে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনা ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে। কে কবে শপথ নেবেন, সরকার গঠন কীভাবে হবে এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব কবে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন নেতৃত্বের হাতে যাবে—এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ধারিত আছে সংবিধানেই।
নির্বাচনের পর প্রথম ধাপ হলো ফলাফলের সরকারি গেজেট প্রকাশ। নির্বাচন কমিশন বেসরকারি ফল জানালেও গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সেটি আইনি দৃষ্টিতে চূড়ান্ত ধরা হয় না। গেজেট প্রকাশের পরই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথের সময়সূচি কার্যকর হয়।
শপথের বিষয়টি এবার বিশেষভাবে আলোচনায়। কারণ, প্রচলিত নিয়মে জাতীয় সংসদের স্পিকার সদস্যদের শপথ পড়ালেও বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পিকার বা সংসদের অনুপস্থিতি একটি অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তবে সংবিধান এ ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থাও রেখেছে। রাষ্ট্রপতি চাইলে কোনো ব্যক্তিকে শপথ পড়ানোর দায়িত্ব দিতে পারেন; নির্ধারিত সময়ে তা সম্ভব না হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করাবেন—এমন বিধান রয়েছে।
নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ সম্পন্ন হলে পরবর্তী ধাপ শুরু হয় রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে। সংসদে যে দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে অর্থাৎ বিএনপি—রাষ্ট্রপতি সেই দলকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান। দলনেতাই তখন সংসদের আস্থাভাজন হিসেবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে এগিয়ে যান।
এরপর প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নেন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, শপথ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই তাদের দায়িত্ব কার্যকর হয়। অর্থাৎ এই মুহূর্তেই আগের সরকারের ক্ষমতা শেষ হয়ে নতুন সরকারের হাতে প্রশাসনিক ও নির্বাহী ক্ষমতা ন্যস্ত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, পুরো প্রক্রিয়াটি কয়েক দিনের মধ্যেই সম্পন্ন হতে পারে, যদিও ফলাফলের গেজেট প্রকাশ ও আনুষ্ঠানিকতা মিলিয়ে কিছু সময় লাগা স্বাভাবিক। তবে সংবিধানের নির্ধারিত ধাপগুলো অনুসরণ করা হলে ক্ষমতা হস্তান্তরে কোনো সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হওয়ার সুযোগ নেই।
সব মিলিয়ে নির্বাচনে বিজয়ের পর রাজনৈতিক বাস্তবতা যত দ্রুতই বদলাক না কেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার রূপান্তর ঘটে নির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়েই—গেজেট, শপথ ও রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণ—এই তিন ধাপই নতুন সরকারের পথচলার আনুষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে দেয়।