রাঙামাটির দুর্গম ২০ ভোটকেন্দ্রে হেলিকপ্টারে নির্বাচনি সরঞ্জাম পাঠানো শুরু

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে পার্বত্য জেলা রাঙামাটির ২১৩ কেন্দ্রের মধ্যে ২০ কেন্দ্রে নির্বাচনি সরঞ্জাম ও নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কর্মীদের হেলিকপ্টারে করে পাঠানো শুরু হয়েছে। ২১৩ কেন্দ্রের মধ্যে এই ২০ কেন্দ্র দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে।
ভৌগোলিক অবস্থা ও অপ্রতুল যোগাযোগব্যবস্থার কারণে এসব কেন্দ্রে হেলিকপ্টার ছাড়া যাওয়ার উপায় নেই। দুর্গম হওয়ার কারণে এসব নির্বাচনি কেন্দ্রে গতকাল শনিবার থেকে আলাদা আলাদাভাবে হেলিকপ্টারে নির্বাচনি সরঞ্জাম দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও নির্বাচন কর্মীদের পাঠানো শুরু হয়েছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জুরাছড়ির দুর্গম কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনি সরঞ্জামসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও নির্বাচন কর্মীদের পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন।
তিনি জানান, পাহাড়ের দুর্গম ২০ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে বাঘাইছড়ি উপজেলায় ছয়টি, বরকলে দুটি, জুরাছড়িতে সাতটি ও বিলাইছড়িতে পাচঁটি কেন্দ্র রয়েছে। এসব দুর্গম এলাকার কেন্দ্রগুলোতে ৩০ হাজারের বেশি ভোটার রয়েছে। কয়েক ধাপে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
সড়ক ও নৌপথে যোগাযোগের স্বাভাবিক ব্যবস্থা না থাকায় এসব কেন্দ্রকে হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন আরও বলেন, রাঙামাটির ২০ হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্রে হেলিকপ্টারে নির্বাচনি সরঞ্জাম, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পাঠানো শুরু হয়েছে। এগুলোর জন্য বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সহায়তায় হেলিসর্টের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ব্যালট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় নির্বাচনি মালামাল পরিবহন করা হচ্ছে। কয়েক ধাপে এই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ও গণভোটে এবার রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি চার উপজেলার ২০ হেলিসর্টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। এসব কেন্দ্রে নির্বাচনি সরঞ্জাম, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের আনা-নেওয়ায় হেলিকপ্টার ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য মতে, রাঙামাটির ১০ উপজেলার মধ্যে দুটি পৌরসভা ও ৫০ ইউনিয়ন মিলে মোট ভোটার ৫ লাখ ৯ হাজার ২৬৭।
এর মধ্যে, পুরুষ ২ লাখ ৬৩ হাজার ৪১০ আর নারী ভোটার ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৫৫ ও হিজরা ভোটার রয়েছে দুজন।
সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।