logo

আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নুরুল হক নুরকে শোকজ

আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নুরুল হক নুরকে শোকজ

নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতার প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে পটুয়াখালী-৩ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং বরিশাল সিভিল জজ আদালতের বিচারক সাব্বির মো. খালিদ এ নোটিশ জারি করেন।

জানা গেছে, গত ২৭ জানুয়ারি দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন অ্যাডভোকেট এনামুল হক। অভিযোগে বলা হয়, ২৬ জানুয়ারি রাতে দশমিনা উপজেলার চরবোরহান ইউনিয়নের পাগলা বাজারে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুনের নির্বাচনি কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয় এবং তার কর্মী-সমর্থকদের মারধর করে আহত করা হয়। অভিযোগে এ ঘটনাকে নির্বাচনি বিধিমালার ৬(ক) ধারার পরিপন্থি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রার্থী নুরুল হক নুর তার নির্বাচনি প্রচারণায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুনকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছেন, যা সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর ১৫(ক) এবং ১৬(গ)(ছ) ধারার লঙ্ঘন।

এ বিষয়ে নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে কেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না— তা জানতে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টায় দশমিনায় স্বাক্ষরকারীর অস্থায়ী কার্যালয়ে সশরীরে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন নুরুল হক নুরের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য মো. হাসান মামুন। তবে জোট সমঝোতার কারণে নুরুল হক নুর প্রার্থী হওয়ায় এ আসনে বিএনপি আলাদা প্রার্থী দেয়নি। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও নির্বাচনি লড়াইয়ে অটল থাকেন হাসান মামুন। নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।

বর্তমানে আসনটিতে নুরুল হক নুর ‘ট্রাক’ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুন ‘ঘোড়া’ প্রতীকে নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে প্রচারণার শুরু থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে দুজন একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করে আসছেন। 

এর আগে, গত ২৭ জানুয়ারি রাতে নিজেদের নির্বাচনি অফিস ভাঙচুরের ঘটনায়ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেন দুই প্রার্থী।