logo

নেত্রকোনায় ৫ ভোটকেন্দ্রে দুর্বৃত্তদের অগ্নিসংযোগ

নেত্রকোনায় ৫ ভোটকেন্দ্রে দুর্বৃত্তদের অগ্নিসংযোগ

নেত্রকোনায় সদর ও পূর্বধলা উপজেলায় পাঁচটি ভোটকেন্দ্রে গভীর রাতে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে কয়েকটি বুথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে পরিকল্পিতভাবে এসব অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

অগ্নিসংযোগের শিকার ভোটকেন্দ্রগুলো হলো-নেত্রকোনা সদর উপজেলার নূরপুর শ্রীধরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পারলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বামনমোহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লাইট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পূর্বধলা উপজেলার হিরনপুর উচ্চ বিদ্যালয়।

স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি কেন্দ্রের বুথ কক্ষে থাকা কয়েকটি বেঞ্চ, সিলিং ফ্যান ও বৈদ্যুতিক লাইট আগুনে পুড়ে যায়। তবে স্থানীয়দের দ্রুত তৎপরতা ও সচেতনতায় আগুন তাড়াতাড়ি নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে ভোটকেন্দ্রগুলো।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার রাত আনুমানিক ২টা থেকে ৩টার মধ্যে কোনো এক সময় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। আগুনের ধোঁয়া ও গন্ধ টের পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং একই সঙ্গে পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় ও প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।

মঙ্গলবার সকালে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ, ডিবিসহ (গোয়েন্দা পুলিশ) আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পৃথক পৃথক ভোটকেন্দ্রে গিয়ে বিস্তারিত তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত বুথগুলো পরিদর্শন, আলামত সংগ্রহ এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ভোটকেন্দ্রগুলোর কয়েকটি বুথ পুরাতন ভবনে অবস্থিত ছিল। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, জানালা দিয়ে প্রায় একই কায়দায় আগুন দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনাগুলো গভীর রাতে সংঘটিত হওয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রত্যক্ষদর্শীর মাধ্যমে কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও জানান, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে এ ধরনের নাশকতা চালানো হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রগুলোসহ আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে।

পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।