প্রচারণা শেষ, এখন মাঠে নামলে প্রার্থিতা বাতিল

আর মাত্র একদিন পরেই (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গণভোট। নির্বাচন ঘিরে টানা ২০ দিনের নির্বাচনি প্রচারণা আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৭টায় শেষ হয়েছে। গত ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই প্রচারণায় প্রার্থীরা মাঠে-ঘাটে, শহরে-বন্দরে ভোটের প্রচারে চষে বেড়িয়েছেন। গেছেন ভোটারের দুয়ারে দুয়ারে, দিয়েছেন নানান ধরনের প্রতিশ্রুতি।
ভোটের প্রচার পর্বে সংঘর্ষ, হামলা, সমর্থকদের মধ্যে মারামারিসহ নানা ধরনের গোলযোগও ঘটেছে। পাল্টপাল্টি অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনে নালিশ আর বাগ্যুদ্ধও হয়েছে। প্রচারের শেষ সময়ে এসে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতারা ইতোমধ্যে বিটিভিতে ভাষণও দিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগেই প্রার্থীদের সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে। এখন কোনো প্রার্থী ভোটের প্রচারণা চালালে সেটি নির্বাচনি বিধিমালা লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে, যার ফলে তার প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যেতে পারে।
এ ছাড়া আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় কোনো জনসভা, মিছিল বা শোভাযাত্রা করা যাবে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
এক বিবৃতিতে ইসি জানায়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা, অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় কোনো ধরনের জনসভা, মিছিল বা শোভাযাত্রা করা যাবে না।
নির্বাচন প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্বাচনি এলাকায় বহিরাগতদের অবস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাচনি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যক্তি, নির্বাচন কমিশনের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে ভোটগ্রহণ শেষের ২৪ ঘণ্টা পর পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় অবস্থান করতে পারবেন না।
এদিকে, নির্বাচনে বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন। এরমধ্যে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) প্রায় সাড়ে ৫ লাখ সদস্য ভোটকেন্দ্রে মোতায়েন থাকবে। পুলিশের প্রায় দেড় লাখ, সশস্ত্র বাহিনীর ১ লাখ এবং বিজিবির ৩৭ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন থাকবে। ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৫ হাজার ৭০০টিতে বডি-ওর্ন ক্যামেরার আওতায় থাকবে।
নির্বাচনে মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে সারা দেশে প্রতিটি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬ থেকে ১৭ জন নিরাপত্তা সদস্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ থেকে ১৮ জন মোতায়েন থাকবে। মেট্রোপলিটন এলাকার সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬ জন ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭ জন থাকবেন। দুর্গম ঘোষিত ২৫ জেলার নির্দিষ্ট এলাকার ভোটকেন্দ্রে ১৬ থেকে ১৮ জন করে সদস্য মোতায়েন থাকবে।
নির্বাচনে প্রায় ৪০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং প্রায় ৫০ হাজার দেশীয় পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। একইসঙ্গে বিদেশি সাংবাদিকরাও নির্বাচন কভার করবেন।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।
নির্বাচনে সব মিলিয়ে ২ হাজারের মতো প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে আড়াই শতাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে, বাকিরা ৫১টি দলের প্রার্থী।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। দলটির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৯১ জন প্রার্থী। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৫৮ জন প্রার্থী হাতপাখা প্রতীক নিয়ে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২২৯ জন প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন ৩২ জন প্রার্থী।
সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একইসঙ্গে হওয়ায় এবার ভোটের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে একটানা চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে একযোগে এই ভোট অনুষ্ঠিত হবে। শেরপুর-৩ আসনে সম্প্রতি জামায়াতের প্রার্থী মারা যাওয়ায় সেখানে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। ওই আসনে পরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।