logo

‘এত কষ্ট করি ভোট দি, আরার কি উপায় অইব’

‘এত কষ্ট করি ভোট দি, আরার কি উপায় অইব’

‘সাতটা বাজে লতি আইয়্যেরে এডে তিয়াই থাক্কি। বেশি দেরি অর, এডে ভোট দিত ন পারির। আঁরা আইজু হানাপিনা উদ্দা ন হাই। এ রহম ভোট আগে ন দেহি, এবারের ভোট বেশি হষ্ট বাজি। তারপরও ভোট যোগ্য চাইয়েরে দিয়্যুম। অপেক্ষায় থাকিতে থাকিতে হাত, কোমর, পা ব্যথা গরের। এত ব্যথা লই বই থাকিত ন পারি। এত হষ্ট গরি ভোট দি, আরার কি উপায় অইব।’(সকাল ৭টা থেকে এসে এখানে দাঁড়িয়ে আছি। বেশি দেরি হচ্ছে, এখানো ভোট দিতে পারিনি। আমরা এখনো খাওয়া-দাওয়া করিনি। এ রকম ভোট আগে দেখিনি। এবারের ভোট দিতে বেশি কষ্ট হচ্ছে। তারপরও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেব। অপেক্ষায় থাকতে থাকতে হাত-পা ও কোমর ব্যথা করছে। এত ব্যথা নিয়ে বসেও থাকতে পারছি না। এত কষ্ট করে ভোট দেব, আমাদের ভাগ্য কি বদল হবে?)

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় কথাগুলো বলছিলেন কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামপুরের জমিলা খাতুন (৫৫)। তিনি ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার।

এই কেন্দ্রের তরুণ ভোটার স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নওরীন জান্নাত বলেন, ‘যে সরকার জনগণের জন্য কাজ করবে, স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারব, আমি তাকেই ভোট দিতে লাইনে দাঁড়িয়েছি।’ 

আজ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। কক্সবাজারের ৪টি সংসদীয় আসনের সব ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটের কার্যক্রম শুরু হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। দুপুর ১২টা পর্যন্ত শহরের বার্মিজ স্কুল, সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, খুরুশকুল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে নারী ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। 

এদিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামুর কচ্ছপিয়ায় ইউনিয়ন সভাপতিকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে আটক করা হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।

নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কক্সবাজার জেলায় ১৩ হাজার ৪৯৯ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ২ হাজার ১৬৬ জন সেনাসদস্য, ৮৮০ জন বিজিবি সদস্য, ৩৯৯ জন নৌবাহিনীর সদস্য, ৫০ জন বিমানবাহিনীর সদস্য, ১৪৫ জন কোস্টগার্ড সদস্য, ৮০ জন র‍্যাব সদস্য, ১৯০ জন আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্য ও ১ হাজার ৮১৫ জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া ৭ হাজার ৭৭৪ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতি কেন্দ্রে ১৩ জন করে আনসার সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন।

সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, আনসার ও কোস্ট গার্ডের পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার সদর, চকরিয়া-পেকুয়া, উখিয়া-টেকনাফ ও মহেশখালী-কুতুবদিয়া—এই চারটি আসনে মোট ভোটার ১৮ লাখ ৪৯ হাজার ৩৫৭ জন। ৫৯৮টি ভোটকেন্দ্রের ৩ হাজার ৬৮৯টি কক্ষে ভোটগ্রহণ পরিচালনা করছেন ১২ হাজার ২৫১ জন নির্বাচন কর্মকর্তা। এর মধ্যে প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা রয়েছেন ৪ হাজার ৫০৩ জন এবং পোলিং কর্মকর্তা ৭ হাজার ৭৪৮ জন।

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, ভোটারদের নিরাপদ ও ভয়ভীতিহীন পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নজরদারি রাখা হয়েছে। ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।