logo

নির্বাচনের পরদিনই আওয়ামী লীগ অফিস খুলে দিলেন বিএনপি নেতা

নির্বাচনের পরদিনই আওয়ামী লীগ অফিস খুলে দিলেন বিএনপি নেতা

নির্বাচনের পরদিনই তালা ভেঙে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন দলীয় কার্যালয় খুলে দিয়েছেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিস খুলে দিয়ে তাদের পাশে থাকার পরিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন বিএনপির এ নেতা। 

এদিকে আওয়ামী লীগের ওই কার্যালয় খুলে দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পক্ষে-বিপক্ষে মন্তব্যের ঝড় ওঠে।  

ভিডিওতে চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বুলেটকে বলতে শোনা যায়, বিএনপি সরকার গঠনের পথে এ মুহূর্তে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জননেতা আবু দাউদ প্রধান প্রথমে যে কাজটি করেছেন তা হলো—বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রাণের সংগঠন চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিসের তালা ভেঙে তিনি আজ তা অবমুক্ত করেছেন। এজন্য চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগসহ সব অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে তার কাছে আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনকে বলতে শোনা যায়, আমাদের নামে মিথ্যে মামলা হয়েছে, সেখান থেকে যেন আমাদের রক্ষা করা হয়–এই অনুরোধ জানাচ্ছি আমার মামা আবু দাউদ প্রধানের কাছে।

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আনিসুজ্জমান স্বপনকে বলতে শোনা যায়, বাংলাদেশের পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যদি কেউ ছিনিমিনি খেলার চেষ্টা করে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই পরাজিত শক্তিকে আবারও নস্যাৎ করব। দল-মত নির্বিশেষে সবাই আমরা এলাকায় থাকতে চাই।

বিএনপি নেতা আবু দাউদ প্রধানকে বলতে শোনা যায়, কিছুক্ষণ আগে আমি জানলাম আওয়ামী লীগ অফিসে তালা দেওয়া আছে। আগে জানলে আগেই ব্যবস্থা নিতাম। দীর্ঘ ১৮ বছর পর আমাদের বিজয় হয়েছে। স্বাধীনতার উভয় পক্ষের শক্তিগুলো এক হয়ে মেন্ডেট দিয়েছে। যার কারণে আমরা রেকর্ড পরিমাণ ভোট পেয়েছি সারা বাংলাদেশে।

তিনি বলেন, আমি উভয় দলের নেতাকর্মীদের বলবো—প্রত্যেক দলে কমবেশি দুষ্টু প্রকৃতির লোক আছে। তাদের দল থেকে বহিষ্কারের নিষেধ আছে আমাদের। কোনো অবস্থাতেই আমাদের এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা কেউ যেন ভঙ্গ করতে না পরে। আওয়ামী লীগের ভাইদের উদ্দেশ করে বলতে চাই, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের নাগরিক আপনারা। আপনারা কোনো ধরনের অন্যায় করবেন না, আপনাদের গায়ে কেউ যদি কোনো আঁচড় দেয় আমাকে জানাবেন। কোনো অন্যায়কারীকে আমি প্রশ্রয় দেব না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন বলেন, এই অফিসটি জামায়াতের লোকেরা তালাবদ্ধ করে রেখেছিল। আজ আমরা আবু দাউদ প্রধানসহ এলাকায় অনেক মানুষ নিয়ে অফিসটি খুলেছি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা চলছে। এই অফিসটি আপাতত আমরা মুক্তিযোদ্ধারা বসব। আওয়ামী লীগের কোনো কার্যক্রম আপাতত এই অফিস থেকে হবে না।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান এশিয়া পোস্টকে বলেন, এটা আমার দলের সিদ্ধান্ত নয়। এলাকায় যেন উত্তেজনা বিরাজ না করে, শান্তিপূর্ণ রাখার জন্যই আওয়ামী লীগের অফিস খুলে দিয়েছি। এর আগে জামায়াত এই অফিসটি তালাবদ্ধ করে রেখেছিল।