কমিশন্ড অফিসার পদে নিয়োগ দেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ২৮তম ডিএসএসসি (স্পেশাল পারপাস) এএমসি কোর্সে কমিশন্ড অফিসার পদে জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। পুরুষ ও নারী চিকিৎসকরা নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে এ নিয়োগে আবেদন করতে পারবেন।
আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ১৭ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
পদের নাম: কমিশন্ড অফিসার
কোর্স: ২৮তম ডিএসএসসি (স্পেশাল পারপাস) এএমসি
প্রার্থীর ধরন: পুরুষ ও নারী
চাকরির ধরন: পূর্ণকালীন
আবেদনের মাধ্যম: অনলাইন
আবেদনের শেষ তারিখ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬
বয়স: প্রার্থীদের বয়স ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি তারিখে অনূর্ধ্ব ৪০ বছর হতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য হবে না। আবেদনকারীদের অবিবাহিত বা বিবাহিত উভয় অবস্থাতেই আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। প্রার্থীকে জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: প্রার্থীকে এফসিপিএস/এমফিল/এমএস/এমডি অথবা সমমানের ডিগ্রিধারী হতে হবে। এসব ডিগ্রি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) কর্তৃক স্বীকৃত হতে হবে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক: এ ছাড়া নির্ধারিত ক্যাটাগরির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এ নিয়োগে আবেদন করতে পারবেন।
ক্যাটাগরিগুলোর মধ্যে রয়েছে: ক্রিটিক্যাল কেয়ার মেডিসিন স্পেশালিস্ট, এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট, পালমোনোলজিস্ট, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, নিউরো মেডিসিন, ইন্টারনাল মেডিসিন, নেফ্রোলজিস্ট, রিউমাটোলজিস্ট, রেডিওলজিস্ট, নিউরোডেন্টোলজিস্ট, পেডিয়াট্রিক এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট, পেডিয়াট্রিক নিউরোলজিস্ট, কার্ডিয়াক সার্জন, কলোরেক্টাল সার্জন (পুরুষ/মহিলা), বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জন এবং অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট।
শারীরিক যোগ্যতা
- পুরুষ প্রার্থীদের ন্যূনতম উচ্চতা ১.৬৩ মিটার (৫ ফুট ৪ ইঞ্চি) এবং ওজন ৫৯ কেজি (১৩০ পাউন্ড) হতে হবে। বুকের মাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ০.৭৬ মিটার (৩০ ইঞ্চি) এবং প্রসারিত অবস্থায় ০.৮১ মিটার (৩২ ইঞ্চি) হতে হবে।
- নারী প্রার্থীদের ন্যূনতম উচ্চতা ১.৫২ মিটার (৫ ফুট) এবং ওজন ৪৯ কেজি (১০৯ পাউন্ড) হতে হবে। বুকের মাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ০.৭১ মিটার (২৮ ইঞ্চি) এবং প্রসারিত অবস্থায় ০.৭৬ মিটার (৩০ ইঞ্চি) হতে হবে। উচ্চতা ও বয়স অনুযায়ী নির্ধারিত স্কেলের অতিরিক্ত ওজন শিথিলযোগ্য।
অন্যান্য যোগ্যতা: প্রার্থীকে বৈবাহিক জীবনে অবিবাহিত বা বিবাহিত হতে হবে। কোনো ফৌজদারি অপরাধের জন্য আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত হলে আবেদন করা যাবে না। একই সঙ্গে প্রতিটি চোখের ক্ষীণদৃষ্টি ও দূরদৃষ্টি ২.৫ ডাইঅপ্টারের বেশি এবং বিষমদৃষ্টি ১.০ ডাইঅপ্টারের বেশি হলে প্রার্থী অযোগ্য বিবেচিত হবেন।
আবেদন যেভাবে: আগামী ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ১৭ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। আবেদন করতে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে হোমপেজের অ্যাপ্লাই নাও অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর ২৮তম ডিএসএসসি (স্পেশাল পারপাস) এএমসি কোর্সে আবেদন করতে হবে।
আবেদনকারীকে ক্রেডিট কার্ড, ভিসা/মাস্টারকার্ড, ট্যাপ, বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদির মাধ্যমে ১ হাজার টাকা আবেদন ফি এবং ১ হাজার টাকা অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ফি দিতে হবে। অর্থাৎ মোট ২ হাজার টাকা প্রদান করতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হলে ওয়েবসাইট থেকে কল-আপ লেটার পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
নির্বাচন পদ্ধতি: প্রাথমিক স্বাস্থ্য ও মৌখিক পরীক্ষা আগামী ২০ থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ডিজিএমএস অফিস, ঢাকা সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সময় প্রার্থীদের কল-আপ লেটার, জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি এবং সব পরীক্ষার সার্টিফিকেট ও মার্কশিটের মূল কপি সঙ্গে রাখতে হবে।
এসব কাগজপত্রের মধ্যে এসএসসি, এইচএসসি, এমবিবিএস, ইন্টার্নশিপ এবং এফসিপিএস/এমফিল/এমএস/এমডি অথবা সমমানের ডিগ্রির মূল সনদ ও বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন কার্ড থাকতে হবে। কোনো পরীক্ষায় যোগ্যতা অর্জন না করলে প্রার্থী অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
প্রাথমিক বাছাইয়ের পর পরীক্ষার ফলাফল ওয়েবসাইট এবং এসএমএস/টেলিফোনের মাধ্যমে জানানো হবে। এরপর মনস্তাত্ত্বিক ও চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
চূড়ান্ত নির্বাচন ও যোগদান: সব পরীক্ষায় যোগ্যতা অর্জনের পর মেধাক্রম অনুযায়ী প্রার্থীদের সেনাবাহিনী সদর দপ্তর, অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল শাখা, পার্সোনেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন পরিদপ্তর কর্তৃক চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। পরে যোগদানপত্র দেওয়া হবে।
প্রশিক্ষণ ও কমিশন: চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর ট্রেইনি অফিসার হিসেবে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে (বিএমএ) ১০ সপ্তাহের সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। সফলতার সঙ্গে প্রশিক্ষণ শেষ করলে লেফটেন্যান্ট পদে কমিশন দেওয়া হবে। এরপর বিধি অনুযায়ী পদোন্নতি দেওয়া হবে।
বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা: সরকার নির্ধারিত অন্যান্য সুবিধাদিসহ সেনাবাহিনীর প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী অফিসার হিসেবে বেতন ও ভাতা দেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রার্থীরা নিরাপদ ও মনোরম পরিবেশে বিধি অনুযায়ী বাসস্থানের সুবিধা পাবেন।
সামরিক হাসপাতালগুলোতে উন্নত চিকিৎসা সুবিধা এবং দুরারোগ্য ব্যাধিতে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে বিধি মোতাবেক নগদ আর্থিক সহায়তাসহ বিদেশে চিকিৎসার সুযোগও রয়েছে। সন্তানদের জন্য সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত স্কুল-কলেজে যোগ্যতা অনুযায়ী অধ্যয়নের সুযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সামরিক মৌলিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে প্রার্থীদের বিএমএতে যোগদানের আগে সাঁতার শেখার উপদেশ দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির যেকোনো অংশ পরিবর্তনের ক্ষমতা সেনাসদর সংরক্ষণ করে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের যোগদানপত্র প্রদান বা বাতিলের ক্ষমতাও সেনাসদরের হাতে থাকবে।


