রাশেদ খানের ওপর নির্যাতন, এডিসি ইশতিয়াকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু: চিফ প্রসিকিউটর

কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা ও বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টার রাজনৈতিক বিশেষ সহকারী রাশেদ খানের ওপর ২০১৮ সালের অমানুষিক নির্যাতন এবং মাওলানা আলামিনকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ইশতিয়াক আহমেদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ২০১৮ সালের ১ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা রাশেদ খানকে তুলে নিয়ে গিয়ে অকথ্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। ট্রাইব্যুনালের ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি ইতোমধ্যে রাশেদ খানের লিখিত অভিযোগ ও জবানবন্দি গ্রহণ করেছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার কারণে রাশেদ খানের ওপর এই অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল, যা সাধারণ মানুষের কাছে প্রকাশ করার মতো নয়। ভিন্নমত দমনে পুলিশ বাহিনীর একাংশের এই অসহিষ্ণুতা ও দমনপীড়ন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তৎকালীন সময়ে একই প্যাটার্নে আন্দোলনকারী বহু নেতা ও সাধারণ মানুষকে গুম ও নির্যাতন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এডিসি ইশতিয়াক আহমেদের বিরুদ্ধে মাওলানা আলামিন নামের এক ব্যক্তিকে অপহরণ, দীর্ঘ দিন কাস্টডিতে আটকে রাখা এবং পরবর্তীতে হত্যার পর লাশ গুম করার গুরুতর প্রমাণ মিলেছে। তদন্ত সংস্থার রিপোর্টের ভিত্তিতে মাওলানা আলামিন হত্যা মামলায় ইতোমধ্যে এডিসি ইশতিয়াকের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে ‘ফরমাল চার্জ’ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) দাখিল করা হয়েছে।
প্রসিকিউশন দল মনে করছে, একাধিক ব্যক্তির ওপর একই পদ্ধতিতে পরিচালিত এই নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডগুলো অপরাধের ‘ওয়াইডস্প্রেড অ্যান্ড সিস্টেমেটিক’ (ব্যাপক ও পদ্ধতিগত) প্রকৃতির অংশ। ফলে এসব অপরাধ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সরাসরি এক্তিয়ারভুক্ত মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।


