ঢাকা বার নির্বাচনে মুখোমুখি বিএনপি-জামায়াত, ভোটগ্রহণ শুরু

প্রতিকূল আবহাওয়াকে উপেক্ষা করেই ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের দুই দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে পুরান ঢাকার সমিতি ভবনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা এক ঘণ্টার (দুপুর ১-২টা পর্যন্ত) বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে।
একই সময়সূচিতে বৃহস্পতিবারও ভোট নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. বোরহান উদ্দিন। তার নেতৃত্বে ১০ সদস্যের নির্বাচন কমিশন ও ১০০ জন কর্মী সুষ্ঠু ভোট আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছেন।
দীর্ঘদিনের চিত্র বদলে এবার আওয়ামী লীগ সমর্থিত ‘সাদা প্যানেল’ নির্বাচনী লড়াইয়ে নেই। ফলে দুই দশকের বেশি সময়ের একসাথে নির্বাচন করা বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন।
বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ সমর্থকরা ‘জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য’ বা নীল প্যানেলের ব্যানারে লড়ছেন। অন্যদিকে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থকরা অংশ নিয়েছেন ‘আইনজীবী ঐক্য পরিষদ’ বা সবুজ প্যানেলে।
সমিতির ২৩টি পদের বিপরীতে মোট ৫৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী দুই প্যানেল মিলিয়ে ৪৬ জন ও বাকি ৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
নির্বাচনে ২১ হাজার ৭৩১ আইনজীবী নতুন নেতৃত্ব বেছে নিতে ভোট দেবেন।
এবারের নির্বাচনে নীল প্যানেল থেকে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আবুল কালাম খান। আর সবুজ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে রয়েছেন এস এম কামাল উদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আবু বক্কর সিদ্দিক।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এই প্রথমবারের মতো ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে, দলের একাধিক আইনজীবী স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ দেখালেও অনুমতি না পাওয়ায় তারা শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৪-২৫ মেয়াদের নির্বাচনে সভাপতি-সম্পাদকসহ ২১টি পদে জয় পেয়েছিল সাদা প্যানেল। তবে ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আদালতে যাওয়া বন্ধ করলে সমিতির কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।
এ পরিস্থিতিতে ওই বছরের ১৩ আগস্ট বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করেন। এতদিন সেই কমিটিই সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।